গল্পে নীলাঞ্জন কুমার

নবজন্ম

হামিদা খাতুন । পালিয়ে এসেছে বাড়ি থেকে কাকভোরে । কাল তার বিয়ে মুম্বাই থেকে আসা এক অবস্থাপন্ন বৃদ্ধের সঙ্গে । ভ্যানচালক বাবা তার কাছে টাকা নিয়েছে । হামিদার বিয়ের বয়েস হতে এখনও বছর দুই । সে শুধু পড়তে চায়, কিন্তু মা তাকে পড়তে দিলো না । শেষে সে এক শিশি বোতলের কারখানায় কাজ নিয়েছিল। সেই কাজ করতে করতেই এই বিয়ে কান্ড ।
ও বেশ কিছু দিন ধরেই পালানোর ছক করছিল । সে তার বন্ধু সুমি কে ব্যাপারটা বলেছিল । সুমিও মানতে পারেনি স্কুলের ভালো ছাত্রীর এই দুর্দশা । সে স্কুলের কবিতা দিদিমণি কে গোপনে ব্যাপারটা জানাতেই হামিদাকে শ্যামবাজারে তার কাছে আসার জন্য একটা চিরকুটে লিখে দিয়ে বলছিল , ‘ এই কাগজটা নে , ওকে যত্ন করে রেখে দিতে বলিস । প্রয়োজনে কাজে লাগবে ।’
সুমি হামিদাকে কাগজটা দিলে সে হাতে চাঁদ পেয়ে গেল । তারপর চুপি চুপি ভোরে ঠিকানা ধরে দিদিমণির বাড়ি ।
এদিকে তো হামিদার মহল্লায় হৈ হৈ । থানা পুলিশ, সেই সঙ্গে হামিদার বাবাকে ভাবী বরের ধমকানি ।
একদিন পর হামিদার খোঁজ পেলে ওরা তাকে নিতে এলে সে শর্ত দিলো , এ বিয়ে করবে না ।পড়াশোনা করতে বাধা দেওয়া চলবে না । হামিদার মা বাবা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সব মেনে নিলে হামিদা ভর সন্ধ্যায় যেন দেখতে পেল নতুন সূর্যোদয় ঘটছে ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।