কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে নিতাই চন্দ্র দাস

পরিবর্তন

পরিবর্তন এই জগতের রীতি
আজ যা আছে কাল তা স্মৃতি।
কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়
পরিবর্তন সব কিছুতেই হয়।
আজ ঘাট হয়েছে আঘাট
আর আঘাট হয়েছে ঘাট।
এই গাছপালা পথ ঘাট
নদী নালা দোকান পাট।
জলবায়ু আবহাওয়া অরণ্যভূমি
সবই পরিবর্তনের অনুগামী।
পেশা ভালবাসা নিয়ম নীতি
আবেগ আর মধুময় সম্প্রীতি।
সবই পরিবর্তন আজ চুপিসারে
চোখের সম্মুখে অতি ধীরেধীরে।

যেখানে ছিল বিস্তৃত জলাভূমি
বাতাসে দোলে উঠিতো উর্মি।
যেখানে বাঁধা ছিল নৌকার সারি
নৌকায় দিতো দূরদূরান্ত পাড়ি।
জলের উপরে ভাসিতো দাম
শাপলা কলমি আরো কত নাম।
আজ সেখানে বিশাল অট্টালিকা
পিচঢালা পথ আলোক বর্তিকা।
দোকানপাট বিপনি বিতান
সৌন্দর্য বর্ধক ফুলের বাগান।
জন মানবের হইচই রবে
মুখরিত এলাকা উচ্ছল সবে।

যেখানে ছিল মানুষের পদ ধ্বনি
মাঠ জুড়ে ছিল ফসলের হাতছানি।
নগর গ্রাম বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর
সবুজে ঘেরা গাছগাছালি বিস্তর।
ভোরে ঘুম ভাঙ্গিতো পাখির গানে
ছুটিতো লোক কাজের সন্ধানে।
আজ সেখানে নদী বয়ে চলে
বিস্তীর্ণ আবাস ভূমি জলের তলে।
নৌকা স্টীমার লঞ্চ চলে সারিসারি
জেলেদের সময় কাটে মাছ ধরি।

যে ছেলেটি বেড়াত পথের ধারে
নগরে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে।
আজ সেখানে দেখি অন্য কেহ
ছুটিছে নিয়ে জরাজীর্ন দেহ।
যাকে দেখেছি বখাটে ভবঘুরে
ঘুরে বেড়াত আড্ডা মেরে।
যে ছিল দিনমজুর অতি নগন্য
যার সমাজে ছিলনা কোন মান্য।
আজ তার বিলাসবহুল অট্টালিকা
চারপাশে বিচরণ কত পরিচালিকা।
সকলের কাছে অতি আদরনীয়
তার কাছে সবে শ্রদ্ধায় নমনীয়।

যার সমাজে ছিল দাম
সবার কাছে ছিল সুনাম।
কত শত লোক চারিপাশে
ছুটে আসিতো অঙ্গুলি নির্দেশে।
যে ছিল রাজপ্রাসাদের মালিক
ভাগ্য দোষে আজ তা অলিক।
যে ছিল অফিসের ছোট বাবু
বড় কর্তার নির্দেশে হতো কাবু।
আজ সে অফিসের বড় পদে
তার নির্দেশ ঘুরে উচ্চনাদে।

যে ছিল অতি আপন জন
যারে নিয়ে কাটিতো জীবন।
কোন দিন চোখে হারা হলে
অন্তর জ্বলিতো দুখের অনলে।
এখন অনাদরে অবহেলা করে
প্রিয় জন চলে গেছে দুরে।
ঘুরে ফিরে শুধু অতীত স্মৃতি
হারিয়ে গেছে মধুময় প্রীতি।

যে প্রেয়সী ভালোবাসে অন্তরে
চোখে নাহি কভু আড়াল করে।
মনের মানুষেরে দিতে পারে প্রাণ
ভালবাসার নেই কোন টান।
কাল সে চলে যেতে পারে দূরে
হয়তোবা ঘরনী অন্য কারো ঘরে।

আজ যে শিশুটি চারপাশে ঘুরে
কথা বলে আধোআধো স্বরে।
বাড়িছে ধীরে চোখের সম্মুখে
স্নেহ মায়া মমতা মেখে।
যাদের দেখেছি সেই ছোট্ট থেকে
আজ পরিনত চৌকশ যুবকে।
কখন জানি হয়ে গেল বড়
অজান্তে ধীরে মনের অগোচর।
এখন তাদের কথার ফুলঝুরিতে
হৃদয় আপ্লুত হয় আবেগেতে।

আমারো পরিবর্তন হয়েছে নিরবে
সম্পর্ক ও ডাক আজি অন্যভাবে।
আগে কেহ বলিতো ছোট ভাই
এখন কাকা দাদা শুনিতে পাই।
সময়ের ব্যধানে হয়ে গেছি বাবা
এখন পরিবারের করছি সেবা।

কত লোক দেখেছি আমাকে ঘিরে
তারা চলে গেছে ভবপার ছেড়ে।
আজ যারা আছে ধরনীতে
তারাও চলে যাবে নিভৃতে।
আসা যাওয়ার নিয়ম নীতি
চলিবে চিরকাল যথারীতি।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।