ক্যাফে কাব্যে নিলাঞ্জন চক্রবর্তী

লজ্জা লাগা দরকার

ভিত্তির যেথা গর্ভে আগুন, ভবিষ্যতেও রাহুর গ্রাস।
সেই শীতাতুর শালের কাঁধে, দুলছে সময়-কালের লাশ।
জ্বলছে শপথ পাতায় পাতায়,
ছিটছে কালি শান্ত জামায়,
সর্ব-জননী আঁকছে শিরায়
শিথিল আঁচড়ে সর্বনাশ!
পরজীবীদের চোষকযন্ত্রে, অঙ্কুরিত তৃণ সুবাস।
রক্তের দামে বিপ্লব তাই সওদা করেনা আর সুভাষ।

নিদারুণ এই সময়চক্রে মুদ্রার ভারে বাড়ছে মেদ।
গালি দাও কি বা সাধুবাদ প্রিয়, বক্রাস্থি’র নেই যে খেদ।
গর্জে উঠেছে যক্ষনি কাজী,
উপাধির দায়ে জুটে গেছে পাজি।
শঙ্খ নিনাদ শুনে উন্মাদ,
করোটির ত্বকে পড়েছে ভাঁজ।
রক্ত চোষায় চুষলো শরীর, পেট যেনো তার ঢাকের দ্বার।
পলাশের নয়, লাল বলে তিনি চিনেছেন শুধু সুঁট-প্রহার!

নীল রং ছিল প্রিয় এককালে, সাদা মানে ছিল শান্ত পথ।
আগামীর দিন বিপরীত দেখে, প্রজাপতি সেজে উড়ছে মথ।
মূলহীন যত ফুল ছিল আজ,
সবুজ ফাটলে করতেছে রাজ।
চৌচিরপ্রায় মানবসমাজ,
গ্রিবা-নলে ঢালে গরলসুখ।
বিতন্ডাতেই বাত মেরে দেখি, বাঘের সামনে সবাই চুপ।
রেখাই যেখানে বক্র, সেখানে মাপবো কেমনে বর্গরূপ?

ভার্সিটি গেটে চপ ভাজে রোজ, বি.এ. ফার্স্ট ক্লাস রায় সনৎ।
উনুনের পেটে ক্ষুধার আগুনে, জ্বলছে প্রাণের চর্যাপদ।
সাধ ছিল তাঁর সমাজ গড়ার,
সাধ্যহীনের মুষ্টি ভরার,
ক্লেশ বিনিময়ে প্রাপ্ত আহার,
কেড়ে খেলো রাজ-চতুষ্পদ।
চিতার অনলে উত্তাপ মেখে, অঙ্গার সম পুড়ছে ডোম।
অদূরেই শুনি, লয়হীন গানে বেজে ওঠে কার মেট্রোনম।

কবিতারা নাকি আশার আলো! ত্রেতাকালে ছিল সেই প্রভাব।
খ্যাতির আড়ালে চৌর্যবৃত্তি— বিংশের কবিদের স্বভাব।
মোহের ছন্দে শব্দ পোষণ,
উল্লাসে চলে বক্ষ শোষণ,
অংশুমানের স্তবক দূষণ,
রায়চক তবু রয় নীরব!
সত্য সেতার ভুলে ঝঙ্কার, রসাতলে খোঁজে সুরের শব।
লালসার রসে লিখছে কলম, পরিতুষ্টির মহোৎসব।

ঘাসের ব্যবসা চলছে খাসা, পাতার আগুনে জীবন পার।
জীবিকার খোঁজে পথ ছাড়ো যদি জুটবে কপালে পেটোর মার।
সংবাদ শুনে দুঃসাহসের,
দ্বার ছিঁড়ে ফেলে চন্দ্রহাসে,
পথ ভোলা সেই এগারো কী বারো
খাক হলো স্বৈরুল্লাসে।
দরকার জানি লজ্জা লাগার, দরকার জানি দরকার;
কেষ্ট ঠাকুর একবার বলো, “লজ্জা লাগা দরকার!”

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।