সাতে পাঁচে কবিতায় নবনীতা চট্টোপাধ্যায়

১| ঘুমের ভিতর
ঘুমের ভিতর এক উর্ধ্বশ্বাস দৌড়
পার হয়ে যায় প্রান্তর… ছায়াপথ… |
বহু আলোকবর্ষ জুড়ে ছুটন্ত
গ্রহ ও নক্ষত্রের পারস্পরিক কৌণিক দূরত্ব
যেন কোথাও ঠিক পৌছানোর ছিল
অথচ তীব্র দহনে নি:শেষিত সূর্য
সাদা বামন হয়ে ব্ল্যাকহোলে… |
ঘুমের ভিতর কেঁপে কেঁপে উঠি|
পড়ে যেতে যেতে টাল সামলে
শক্ত করে ধরে ফেলি আমার হাত|
ঘুমের ভিতরেই নিজের সাথে মানুষের
ভারি নিবিড় এক বন্ধুত্ব হয়|
২| ভেঙ্গে যায় জলস্তম্ভ
অথচ ছবিটি ঠিক এভাবে আঁকার কথা নয়|
যে নির্জন পাহাড়ী স্টেশনে গাছের চীৎকারে
সহসা থমকে দাঁড়িয়ে যায় ট্রেন নি:শব্দ, নিশ্চুপ
সে জানে এই অপঠিত নিষিদ্ধ রূপকথা… |
পাহাড়ী ঘূর্ণিপথে মানুষের এক বল্গাহীন দৌড়ে
পিছন থেকে সামনে এসে ছড়িয়ে যাচ্ছে ব্ল্যাকহোল
চোখের ভিতর ঢুকে পড়ছে গুঁড়ো গুঁড়ো মেঘ|
আর ঘুমের ভিতর গুমগুম শব্দে
জলচূর্ণ হয়ে যায় বিশাল জলস্তম্ভ|
৩| ঘুম ভেঙ্গে গেলে
ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখি ঠান্ডা অন্ধকার
ছেয়ে আছে অথৈ মশারীর নীল জালে|
চৌকাঠের বাইরে অতিচেতন স্পর্শেরা
যেন ফেনিল সমুদ্রের অনিচ্ছায় নির্বাসনে
যাওয়া দিশাহারা হারানো নাবিকের দল|
বশীকরণের মন্ত্রে হাজার আত্মারা
শব্দ.. বর্ণ.. অক্ষর হয়ে হাত বাড়ায়|
নাছোড় ভিক্ষুকের মত সংগ্রহ করি আলো… |