সম্পাদকীয়

এই অতিমারির কালে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ যেমন আগের মতো নেই। তেমনি উৎসব তার রঙ বদলে ফেলেছে। তবু তার আবাহন আছে। বাজার ভর্তি সুন্দর সুন্দর রাখী-দিদি আর বোনেরা ভাই কে পরিয়ে দেবে- মিষ্টি খাওয়া, গিফট । বেশ মধুর পারিবারিক উৎসব। কিন্তু তার মধ্যেও মনে পড়ে—- রবি ঠাকুর, বঙ্গভঙ্গ, হিন্দু-মুসলমান আর সম্প্রীতি। রবিঠাকুর উৎসব টিকে অন্য মাত্রা দিয়েছিলেন। সবাই জানে সে সব।
উইকি পিডিয়াতে রাখী বন্ধন উৎসবটি কে হিন্দুদের পালন করা উৎসব বলে লেখা আছে। এই উৎসবের টাইপ বলতে গিয়ে বলা আছে… Religious, Cultural, Secular। Secular শব্দ টা কেমন বিদ্বেষ ভাবনা দূরে ফেলে উজ্বল হয়ে ওঠে। সাধারণ ভাবে মানুষ বিশেষ করে ভারতীয়রা প্রবল কলহ প্রবণ। জনসংখ্যা বেশী হওয়া তে মানুষের মতামতের সর্বদা টক্কর চলে। নানান জনের মত, নানা ভাবে শ্রেষ্ঠ হবার জন্যে চেষ্টা , মানে যাচ্ছেতাই টানাপড়েন। সেই টানাপড়েন সরিয়ে মাঝে মাঝে এক একটা দিন একটু অন্য ভাবে ভাবা হোক বলে এই সব সামাজিক উৎসবের চেষ্টা চালানো হয়। একসাথে থাকা জরুরি। এক সাথে থাকলে একটু ‘বিরক্ত’ লাগতে পারে, সুখ সাছন্দ্য ভাগ নিতে হতে পারে… কিন্তু বিবাদের চেয়ে সম্প্রীতি অনেক বেশী ভালো। ‘সবার রঙে রঙ মিশাতে হবে’ ।এই ধরণের উৎসব গুলো কেবল পারিবারিক থাকে না। যত ছড়ায় তত মঙ্গল।যিনি রোজ কাগজ দেন তাকে যদি রাখী পড়িয়ে একদিন মিষ্টি খাইয়ে দেওয়া হয় — কিংবা খুব ঝগড়াটে একা থাকা পাড়ার মাসীমা কে যদি বলা হয় “আপনি রাখীতে খাওয়ান তো!”… একটু অন্য আলো জ্বলে তাদের মুখে। পারিবারিক ধার্মিক গণ্ডি থেকে উৎসব যদি সামাজিক হয় সেটা দেশ আর দশের পক্ষে খুব ভালো।আধুনিক সোশ্যাল নেট ওয়ার্ক সাইট গুলোতে ট্রোল করার যে জনপ্রিয় সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে সেটা ভাইরাল হয় তাড়াতাড়ি।খারাপ কাজ,খারাপ কথা… তার নিন্দা করতে গিয়ে ততোধিক খারাপ শব্দ বা ভাবনা… কালো… আরও কালো…
এটা থেকে মন, চেতনা,শরীর, সমাজ,দেশ,পৃথিবী কে বাঁচানোর উপায় খুঁজতে গেলে এই সম্প্রীতির উৎসব গুলো করা খুব জরুরী। অপমানের পুড়ে যাওয়া ক্ষত বুকে নিয়েও শত্রুর হাতে একটা সুন্দর রঙিন রাখী বেঁধে দেওয়া শিখে নিতে পারি আমরা… । সেও শিখে যাবে ধীরে ধীরে… আঘাত নয়… হাত ধরে থাকা। জীবনের সব জায়গায় কিন্তু একার জিতে যাওয়া অনেকের সাথে পরাজয় ভাগ করার চেয়ে সুন্দর কি?

নিবেদিতা ঘোষ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।