কাচের বদ্ধনলের ভিতর বায়ু রেখে তার মধ্যে বিদ্যুৎ চালানোর চেষ্টা চলছিল। সাধারণ ঘনত্বের বায়ু বিদ্যুৎ পরিবহণে বিশেষ সহযোগিতা করে না। কিন্তু বায়ুর চাপ কমিয়ে তার ঘনত্ব কমিয়ে দিলে বায়ু একটু একটু করে বিদ্যুৎ প্রবাহের অনুকূল হয়ে ওঠে। চাপ কমার সাথে সাথে কাচের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহের স্থান থেকে আলো বেরিয়ে আসে। তা ছায়াও ফেলতে পারে। এভাবেই ক্যাথোড রশ্মি। ওইরকম কাচনলের ভিতর বিদ্যুৎ চালিয়ে নানাবিধ কাজ করে দেখছিলেন বিজ্ঞান সাধকেরা। বিদ্যুৎ প্রবাহের ধনাত্মক প্রান্তকে বলে অ্যানোড। বিপরীতটির নাম ক্যাথোড। বিদ্যুৎ প্রবাহের ক্ষমতা বাড়ালে, আর বাতাসের চাপ বেশ অনেকটা কমিয়ে দিলে কি কাণ্ডটা ঘটে, বুঝতে চাইলেন বিজ্ঞানী উইলহেলম রন্টজেন। জার্মান বিজ্ঞানী। কি যে হল, তা ঠিক বোঝা গেল না। কিন্তু দেয়ালে ছবি ফুটল একটা কঙ্কাল তার আঙুলে আংটি পরে আছে। আবার দেখা গেল কাগজের মোটা প্যাকেটের ফিতর রাখা ফোটোগ্রাফিক ফিল্ম আলো লেগে যেমন হয়ে যায়, তেমন ডেভেলপড হয়ে গিয়েছে। প্যাকেটের বাইরে ছিল চাবি। ফোটোগ্রাফিক ফিল্মে সে চাবির ছবি আঁকা হয়ে গিয়েছে।
কেন এমন হল? প্রশ্ন করতে করতে বিজ্ঞানী জবাব পেলেন কঙ্কালের আঙুলের আংটি আসলে তাঁর বউ বার্থার আংটি পরা হাতের ছবি। অদৃশ্য আলো বার্থার করতলের মাংসপেশি ভেদ করে গিয়ে আঙুলের হাড়ের ছবিটি এঁকেছে। আংটিও আছে। মোটা কাগজের ভিতরে যত্ন করে রাখা ফোটোগ্রাফিক ফিল্মে আলো পৌঁছে গেছে। কাগজের বাধা মানে নি। তবে ধাতব চাবিকে ডিঙোতে না পেরে ফিল্মে তার ছবি ফুটিয়েছে।
এভাবেই একস রশ্মিকে চেনা গেল। উইলহেলম রন্টজেন ১৮৯৫ সালে আজকের দিনে সেসব গবেষণা পত্র প্রকাশ করেন। আজ চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই একস রশ্মি বহুবিধ সহায়তা করে। সাধারণ একস রে ছবি তুলে দেহাভ্যন্তরে নানা ধরনের সমস্যার চেহারা দেখে রোগনির্ণয় হয়। সিটিস্ক্যান নামে তার পরিচয়। কর্কট রোগের দুষ্ট কোশকে নিয়ন্ত্রণেও এই রশ্মির উপযোগিতা আছে।
এই অজানা রশ্মি র সন্ধান দেওয়ায় ১৯০১ সালে তাঁকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। সেই প্রথম নোবেল পুরস্কারের গল্প। ১৯০১ সাল।
যুগান্তকারী গবেষণা সভ্যতাকে এগিয়ে দিল অনেকখানি।