আলোয়সিউস আলঝাইমার: প্রয়াণ দিবসে স্মরণলেখ – লিখেছেন মৃদুল শ্রীমানী

আলোয়সিউস আলঝাইমার (১৪ জুন ১৮৬৪ – ১৯ ডিসেম্বর ১৯১৫)। জার্মান মনোচিকিৎসক ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ। আজ ডঃ আলঝাইমার এর প্রয়াণ দিবস।
আলঝাইমার, এই অসুখটা নিয়ে গবেষণা করে তিনি স্নায়ুরোগের একটি দিগন্ত উন্মোচন করেন। ঠিক কেন, কি কারণে আলঝাইমার অসুখটি হয়, তা আজো পুরোমাত্রায় জানা না হলেও, তার অনেকগুলি দিক চেনাতে জার্মান স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানী ডঃ আলঝাইমার এর অবদান স্মরণীয়।
ডঃ আলঝাইমার ১৮৬৪ সালে ব‍্যাভেরিয়ার মার্কটব্রেইট এ জন্মেছিলেন। মা আন্না জোহান্না বারবারা সাবিনা। বাবা এডুয়ার্ড রোমান আলঝাইমার। বাবা মায়ের উদ‍্যোগে রয়াল হিউম‍্যানিস্টিক জিমন‍্যাসিয়ামে পড়াশুনার সুযোগ পেয়েছিলেন আলোয়সিউস। তারপর মেডিসিন নিয়ে পড়াশুনা। প্রথমে বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারপর টুবিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়। তারপর উজবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৮৭ সালে, তেইশ বছর বয়সে উজবুর্গ থেকে চিকিৎসাবিদ‍্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন। ডক্টর অফ মেডিসিন।
১৮৮৮ সালে টানা পাঁচ মাস ধরে ফ্রাঙ্কফুর্ট অ্যাসাইলামে মানসিক ভাবে অসুস্থ মহিলাদের চিকিৎসা করেছেন। মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স কিভাবে কাজ করে, এবং গুরুতর স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত ও জর্জরিত মহিলাদের ক্ষেত্রে কি কি পরিবর্তন হয়, তা নিয়ে গবেষণা করেন। স্নায়বিক সমস‍্যা ও মনোরোগ নিয়ে জার্মান ভাষায় একটি  বিজ্ঞান পত্রিকার অন‍্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।
ওই ফ্রাঙ্কফুর্ট অ্যাসাইলামে কাজ করতে গিয়েই সেই সময়কার অন‍্যতম বিশ্বসেরা স্নায়ুচিকিৎসক এমিল ক্রেপলিন এর সঙ্গে ডঃ আলঝাইমার এর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়। দুজনে একসাথে কাজ করতে থাকেন। পরে আলঝাইমার যখন সুনির্দিষ্ট ভাবে একটি স্নায়বিক মানসিক অসুখকে চিহ্নিত করেন, তাঁর মৃত্যুর পর, এমিল ক্রেপলিন ওই অসুখটিকে আলঝাইমার এর অসুখ বলে চিহ্নিত করেন।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।