আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান দিবসে বিজ্ঞানপিপাসু রবীন্দ্রনাথ

প্রবীণ বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের খুব ইচ্ছে গেল বিজ্ঞান বিষয়ক বই লিখবেন। বিজ্ঞান নিয়ে প্রথাগত পড়াশুনা তো করেন নি। অথচ জগদীশচন্দ্র বসুর মতো আন্তর্জাতিক মাপের পদার্থবিজ্ঞানীর সঙ্গে খুব হৃদ্যতা ছিল। তাঁকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন। বসু তাঁর সম্মানসভায় সভামুখ্য হয়েছিলেন। তাছাড়া বসুর বাড়িতে নিবেদিতা তিনি আর বসু মিলে কত আড্ডা মেরেছেন। কাছের মানুষ প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশ। তিনিও গোড়ায় পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক। পরে রাশিবিজ্ঞানে আগ্রহ গেল প্রশান্তর। প্রশান্ত তাঁর লেখাগুলি গুছিয়ে তুলতে বৈজ্ঞানিক পন্থা নিয়েছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞান নিয়ে বই লেখাটা একটু শক্ত। তাই দায়িত্ব দিলেন অধ্যাপক প্রমথ সেনগুপ্তকে। প্রমথ সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ছাত্র। ইতিমধ্যে সত্যেন্দ্রনাথ অসাধারণ গবেষণা করে আইনস্টাইনের কাছের মানুষ হয়েছেন। গণিতবিদ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কবির ভাল সম্পর্ক। তিনি কবিকে দিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেওয়ানোর আয়োজন করেছিলেন। তবু বিজ্ঞানের বই লেখার দায়িত্ব দিলেন প্রমথকেই। তারপর সেই খসড়া বই নিয়ে আরো কষা মাজা করে বিশ্ব পরিচয়। প্রুফ যিনি দেখলেন, তিনিও বিজ্ঞানের মানুষ। রাজশেখর বসু। কবি চেয়েছিলেন আদরের সত্যেন্দ্রনাথ বিশ্ব পরিচয় একটু দেখে শুনে দেবেন। সে আর হল না। সত্যেন্দ্রনাথ গভীরভাবে গবেষণায় নিমগ্ন। তবুও কবি তাঁকেই বিশ্বপরিচয় উৎসর্গ করলেন। বিশ্ব পরিচয়ের খসড়া প্রমথ তৈরি করে দেবার পর তিনি সেটা তন্ন তন্ন করে পড়ে বুঝে ভাষাকে গড়ে তুলেছিলেন। চটপট এডিশন হল বইটির। এডিশন তৈরির সময়েও আরো পড়াশুনা করে নিলেন। এইসব সময়ে আর সাহিত্যের বই বিশেষ পড়তে চাইতেন না। বিজ্ঞান বিষয়ক ভাল বইতে ডুবে থাকতে ভালবাসতেন। মহাকাশ বিজ্ঞান আর পরমাণু বিজ্ঞান বিশেষ করে। বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহের ছাপ পড়ে গেল অনেকগুলো কবিতায়। আর সে গল্পে। গ্যেটে ছিলেন নিজস্ব ক্ষমতায় সাহিত্যিক এবং বিজ্ঞানী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে উঠলেন বিজ্ঞান পিপাসু সাহিত্যিক। আজ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান দিবসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞানচর্চা খুব মনে করছি।