ক্যাফে ধারাবাহিকে মৃদুল শ্রীমানী (পর্ব – ৮)

৭| রেডিয়ম কথা

রেডিয়মের পারমাণবিক ক্রমাঙ্ক ৮৮। তার মানে ওর পরমাণুর কেন্দ্রকে আছে ৮৮টি প্রোটন। আর কেন্দ্রককে ঘিরে ঘুরছে ৮৮টি ইলেকট্রন।রেডিয়মের যে আইসোটোপটির আয়ু সর্বাধিক, তা ১৬০০ বছর টিঁকে থাকার পর র‍্যাডন গ‍্যাসে পরিবর্তিত হয়। এই আইসোটোপটিই সাধারণ ভাবে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। এর কেন্দ্রকে ৮৮ টি প্রোটনের সঙ্গে ১৩৮টি নিউট্রন থাকে। মেরি কুরি বিশুদ্ধ রেডিয়ম তৈরি করে দেখিয়েছিলেন। রাসায়নিক যৌগ থেকে রেডিয়মকে বিচ্ছিন্ন করে পেশ করলেন। বিশুদ্ধ রেডিয়ম ক্লোরাইড দ্রবণের তড়িৎ বিশ্লেষণ করেছিলেন তিনি। ক‍্যাথোডে ব‍্যবহার করেছিলেন পারদ। একাজে মেরির সঙ্গী ছিলেন আঁদ্রে লুই দেভিয়ারনে। সেটা ১৯১০ সালের সেপ্টেম্বর মাস। পাওয়া গেল বিশুদ্ধ রেডিয়ম। যার পারমাণবিক ক্রমাঙ্ক বা কেন্দ্রকে প্রোটনের সংখ্যা ৮৮। এইজন্য ১৯১১ সালে মেরি কুরিকে রসায়নবিদ‍্যায় নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
মেরি কুরির এই অবদানকে স্বীকৃতি দিতে ফরাসি সরকার ব‍্যর্থ হন। অথচ যুদ্ধ শেষ হলে সারা পৃথিবী জুড়ে মেরি কুরির খ‍্যাতি বাড়ছিল। সকলে তাঁকে ডাকে। তিনি গড়ে তুলেছেন রেডিয়ম ইনস্টিটিউট। সেটা ১৯১১ সালেই। চারটি বিষয়ে বিশেষায়িত বিশ্বমানের গবেষণাগার ছিল রেডিয়ম ইনস্টিটিউটে। ফিজিক্স কেমিস্ট্রির পাশাপাশি ছিল মেডিসিন ও বায়োলজি বিষয়ক গবেষণাগার। তবে সমস্ত কাজের লক্ষ্য ছিল তেজস্ক্রিয়তাকে গভীরভাবে জানা। মেরি নিজেই ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রির ল‍্যাবরেটরি দুটি পরিচালনা করতেন। মেডিসিন ও বায়োলজি বিষয়ক ল‍্যাবরেটরি দুটি পরিচালনা করতেন ডাঃ ক্লডিয়াস রেগড। এই প্রতিষ্ঠানের সূচনার দিন হতে মেরির জীবদ্দশায় মোট ৪৮৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। তার মধ‍্যে ৩১টি গবেষণাপত্র ও গ্রন্থ ছিল মেরি কুরির নিজস্ব সৃষ্টি।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।