সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে মধুমিতা রায় (পর্ব – ৪)

এই জীবন…

চাঁদটা জানলার বাইরের নারকেল গাছটার মাথায় ঝুলে আছে।ঘুম আসছে না কিছুতেই।অনেকক্ষণ ধরে এপাশ ওপাশ করছে অরিত্র।চোখ নয়,আজ ভাবনায় ঠোঁটদুটো আসছে বারবার।খুব ইচ্ছে করছে জড়িয়ে ধরে চুমু খায়।ইচ্ছেটা যত তীব্র হচ্ছে ছটফটানি বাড়ছে তত।উঠে পড়ল অরিত্র।ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো।মোবাইল খুলে ছবি বের করলো,ঠোঁট ছোঁয়ালো ঠোঁটে।একবার, দুবার, বারবার।সারা শরীর চাইছে স্পর্শ গন্ধ। অসম্ভব অস্থির লাগছে।জোর করে টেবিলে বসল, ডায়রি বের করল,তারপর ডুব দিল।
তোমার মন যেন অন্য কোথাও!… মনিমালাকে আদর করতে করতে সুমন বললো।বরের মুখের দিকে তাকালো মনিমালা,দুহাতে জাপটে ধরল।কি হল তার! কেন শরীর আজ অন্য একটা শরীর চাইছে! কেন ইচ্ছে করছে সে আদর করুক।দুহাতে মুখ তুলে ঠোঁট কামড়ে ধরুক, তার বুকের মধ্যে কেন মুখ গুঁজতে ইচ্ছে করছে!
বরকে আরো জোরে আঁকড়ে ধরল মনিমালা।না, এসব ভাববে না, কিছুতেই না।
মনের যে সীমানা নেই,শিকল নেই আটকাবে কিভাবে!
তৃপ্ত সুমন ঘুমিয়ে পড়েছে অঘোরে।মনিমালার ঘুম আসছে না কিছুতেই।উঠে ঘাড়ে মাথায় জল দিয়ে এলো।তোমাকে চাই… এই ইচ্ছেটা বাড়ছে, ভীষনভাবে বাড়ছে।
বালিশে মাথা দিল।মনে মনে বলল… পাশে এসো, ছুঁয়ে থাকো আমায়।একসময় ঘুমিয়ে পড়ল মনিমালা।
সকালে চা করতে করতে ঠিক করল আজ আর তাকাবে না,দুর্বল হয়ে পড়ছে সে নিজেই টের পাচ্ছে ভীষনভাবে।সে সুমনের স্ত্রী, মিতুলের মা এটাই তার পরিচয়, আর কিছু ভাবতে নেই।
অঙ্কের দিদিমনি কোনদিকে না তাকিয়ে হাঁটতে লাগলেন হনহনিয়ে। হরিদার দোকান,পুকুর ঘাট পার করে একটা দলা পাকানো কষ্টকে জোর করে গিলে একটু থামলেন।দরদর করে ঘাম ঝরছে।ব্যাগ থেকে রুমাল বের করলেন।
… শোনো
চমকে তাকালেন মনিমালা। অরিত্র! রাস্তা এই মুহূর্তে ফাঁকা।
কি ব্যাকুল চোখ! বুকে মোচড় দিয়ে উঠল
… আমি তোমার সাথে একটু কথা বলতে চাই।কখন কিভাবে তুমি জানিও।
অরিত্র চলে যাওয়ার পরও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল মনিমালা।তারপর কি একটা আবেশ নিয়ে হেঁটে চলল ঠা ঠা রোদে,একটুও তাপ লাগলো না!

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।