গারো পাহাড়ের গদ্যে মনিরুজ্জামান প্রমউখ – ১

সব-চেয়ে বড়ো প্রশ্ন

(১)
১৯৭১ সাল আর- মুক্তিযুদ্ধ এক সূত্র-গাঁথা । আবার- মুক্তিযুদ্ধ আর- মুক্তিযোদ্ধা এক’ই সূত্র-গাঁথা । অন্য-দিকে, মুক্তিযোদ্ধা আর- রাজাকার, আল বদর, আল শামস্ যেমন- বিপরীত সূত্র-গাঁথা । সম্ভবত- মুক্তিযোদ্ধা আর- ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অনুরূপ বিপরীত সূত্র-গাঁথা । হয়-তো ভুয়া শব্দ-টি আরোও তীব্র নেতি-জনিত কিছু ব্যাখ্যা’র অবকাশ রাখে । কেননা- মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা ভুয়া হতে পারে-না, বা- পারেন-না । আসল নকল পরিমাপ বা- পরিমাণ করা যায়, বা- ধরা হয় প্রচলিত ধারা’র বিষয় বা- নিয়মে’র উপর ভিত্তি করে । যা- প্রতিনিয়ত উৎপন্ন বা- উদঘাটনে’র তোয়াক্কা রাখে । কিন্তু- মুক্তিযুদ্ধ বা- মুক্তিযোদ্ধা এক-বারে’র জন্য সংগঠিত বা- সংগঠক হয়ে আসে- কোনো জাতীয় করিডোরে বা- সার্বিক-ভাবে বলি’র পাঠা আকারে- বিশ্ব-পরিমণ্ডলে । বড়ো-জোর দ্বিতীয় বারে’র সম্ভাবনা গাহ্য হলেও হতে পারে । তৃতীয়-বার ? অ-বিশ্বাস্য, অ-লৌকিক ! তাই, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা কখনো ভুয়া’ শব্দে ভাষ্য বা- লেখ্য হতে পারে-না ! অথচ- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহারে’র প্রভাব- শনি’র দশা মতো- উপচে পড়া । মিডিয়া’র সর্বত্র “ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা” শব্দে’র অবতারণা- করে আসছে, অ-গণিত কাল হতে । তার হিসেব, কারো- মগজ বিড়ম্বিত হয়-না । ভুয়া শব্দ-টি ব্যবহারে’র সাবলীলে, আমরা শুধু- মুক্তিযোদ্ধা-দের অ-সম্মান করছি-না । সাথে সাথে- অ-সম্মান করছি- সালাম, বরকত, রফিক জব্বার-দের আত্ম-ত্যাগে’র মহিমা-কেও । যারা বাংলা ভাষা-কে রাষ্ট্র-ভাষায় রূপান্তর করতে, রক্ত ঝরিয়ে গেছেন- অবলীলায় । ভাষা’র যথার্থ ব্যবহারে- অপারগ হলে, ভাষা-কেও অ-সম্মান করা হয় । মনে রাখতে হবে- বাঙালী’র দুই সম্পদ । এক. বায়ান্ন, আরেক. একাত্তর । এই দুইয়ে’র অ-সম্মান হলে, জাতি’র আর- কী অবশিষ্ট থাকে ? কিছু’ই-না । অথচ- এক-টি মাত্র শব্দে’র সু-চারু ব্যবহারে- আমরা হয়ে উঠতে পারি- কলঙ্ক-মুক্ত । মুক্তিযোদ্ধা’র বিপরীতে রয়েছে রাজাকার, আল বদর, আল শামস্ যেমন । তেমন-ভাবে ভুয়ো মুক্তিযোদ্ধাও মুক্তিযোদ্ধা’র বিপরীত’ই নয় শুধু । এ যে- কট্টর বিপরীত । অতএব- এদের স্বতন্ত্র নামকরণ জরুরি, মুক্তিযোদ্ধা’র মতো- জাতীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে’র সম্মানে ।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!