আজ আপনাদের কাছে একটা ছোটো গল্প নিয়ে এসেছি যদি ভালো লাগে আপনাদের এবং আপনারা যদি কমেন্ট করে জানান তাহলে এরপরে আপনাদের জন্য ধারাবাহিক উপন্যাস নিয়ে আসবো ৷ খুব সাধারণ একটা ভালোবাসার গল্প ৷ হয়তো আমার আপনার সকলের জীবনে বা পরিচিতদের জীবনেই একরকম ঘটনা জানা আছে ৷ তাই এটা আমাদেরই গল্প ৷
ছোটো থেকে একপাড়ায় থাকতো বিহান আর ইমন ৷ পাড়াতে একসাথে খেলেছে ,স্কুলে গেছে এবছ একই কোএড কলেজে পড়েছে ৷ প্রথমে ভালো বন্ধুত্ব ছিল কিন্তু কখন যে সেটা ভালোবাসায় পরিণত হয়েছিল ওরা দুজনেই বুঝতে পারে নি ৷ যতদিন বন্ধুত্ব ছিল ততদিন ওদের দুই বাড়ীতেই দুজনের মেলামেশা নিয়ে কোনো কথা ওঠেনি কিন্তু যখন ভালোবাসার কথা জানাজানি হল তখনই সমস্যা হল দুই বাড়ীতেই তীব্র আপত্তি ৷ শেষপর্যন্ত ভালোবেসে পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিল বিহান আর ইমন । বিয়ের প্রথম তিন মাস একটু কষ্ট করতে হয়েছিল ইমন কে রোজগারের জন্য ৷ টিউশনি করে আর একটা কমপিউটার সেন্টারে কাজ করে প্রথম তিন মাস ছোট্ট একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া নিয়েছিল কিন্তু তিনমাস পর ইমন একটা ভালো চাকরি পাওয়ায় বড় একটা ফ্ল্যাটে উঠে যায় ওরা।প্রথম প্রথমভালোই চলছিল।হঠাৎ করে ইমন লক্ষ্য করবিহানের র একটু বেশি পরিবর্তন হয়েছে। এই কোম্পানীতে নতুন চাকরীটা পাওয়ার আগে রোজগার কম থাকলেও বিহান মাঝে মাঝেই ইমনকে এদিক ওদিক ঘুরতে নিয়ে যেতো।উইকেন্ডে সিনেমা দেখাতে,বাইরে খাওয়াতে অথবা শপিং এ নিয়ে যেতো।
অনেক ভালোবাসতো। কিন্তু এখন? উইকেন্ডেও বিহান অফিসে যায়।বাড়ীতে ফিরে আসার পর কিরকম খিটমিটে মেজাজ নিয়ে থাকে৷ ইমনের সাথে অকারণেই ঝগড়া করে।বিহানের হঠাৎ পরিবর্তনে ইমন খুব কষ্ট হয় ৷এইতো সেদিন বিহানের ফোনে একটা মেসেজ এসেছে।এসেছে।ইমন সামনে ছিলো, ফোনটা হাতে নিতেই বিহান ছোঁ মেরে এসে ফোনটা নিয়ে নেয়! আর এত্তগুলা কথা শুনিয়ে দেয় ইমনকে।
স্বামীর ফোন স্ত্রী হাতে নেয়াটা তো অন্যায় কিছু নয়। এর আগে বহুবার নিয়েছে এমনকি ফোন কল বা কাউকে মেসেজ করতে হলে বিহানের হয়ে ও করে দিয়েছে কিন্তু আজ বিহানের ব্যবহারে অবাক হলেও কিছুই বললো না ইমন ,চুপ করে গেলো ৷ ব্যালকনী তে ইমন আর বিহান মিলে অনেক গুলো গোলাপ গাছ লাগিয়েছিলো, অনেকদিন হয়ে গেছে কিন্তু সেই গাছে ফুল হয় নি।
এত্ত বড় এ্যাপার্টমেন্টে ইমনের থাকতে দম বন্ধ লাগে,তাই দিনের বেশিরভাগ সময় ইমন এই গাছগুলোর সাথে গল্প করে।তার সুখ দুঃখের গল্প।
ইমনের বাবা মার কথা ও খুব মনে পড়ে।একাকিত্ব তার জীবনটাকে গ্রাস করে।বিহান বাড়ীতে এসে ডিনার করেই ল্যাপটপটা সামনে নিয়ে বসে।
ইমন বিছানার একপাশে চুপটি করে শুয়ে থাকে।
আগের মত বিহান বিছানায় এসে লক্ষী বৌ বলে জড়িয়ে ও ধরেনা।
আজকাল তো ওদের মাঝে কথা ও হয়না।
১৪ ই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস।খুব যত্ন করে শুভর ফেবারিট চকোলেট কেক বানিয়ে সারাটা দিন অপেক্ষা করেছে, বিহান আসে নি ৷বলেছিল অফিসের মিটিং এ আছে আসতে দেরী হবে পরদিন ভোরে বাড়ীতে এসেছে।এসেছে।এসেছে।ইমনও কোনো কথা জিজ্ঞাসা ও করেনি সারারাত কোথায়
ছিলো বা মিটিং কখন শেষ হয়েছে বা রাতে আসেনি কেনো ৷একাকিত্ব আর অবহেলায় জর্জরিত ইমন একসময় দরজা জানালা বন্ধ করে
অন্ধকার ঘরে থাকতে শুরু করে।
বিহান আর ইমনের র মাঝখানে একজন তৃতীয়
ব্যাক্তি ছিলো।বিহানের সুন্দরী কলিগ তিলোত্তমা ।
বিহান বিবাহিত জানার পর ও তিলোত্তমা ওর সাথে সম্পর্কে জড়ায়।কিছু দিন যেতে না যেতেবিহানের উপর থেকে তিলোত্তমা আগ্রহ হারিয়ে অফিসের বসের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কে জড়ায়। কারণ এরা কাউকে ভালোবাসে না শুধু টাকার খেলায় থাকে ৷ বিহান
ফিরে আসে ইমনের র কাছে।কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে,গেছে,ইমন এখন কথা বলতে পারেনা, সব সময় অন্ধকারে থাকার ফলে আলো সহ্য করতে
পারেনা।
বিহান বড় বড় ডাক্তার দেখায় ইমনকেকে।সব ডাক্তারের একই কথা ইমনকে যে স্টেজে আছে এখন থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা মাত্র ৫%!
আর ভালোবাসা এবং সময় ই হলো ওর একমাত্র ঔষধ।
এখন বিহান ইমনকে খুব টেক কেয়ার করে।খুব
ভালোবাসে,কিন্তু ইমন বিছানার সেটা বোঝার ক্ষমতাই যে হারিয়ে ফেলেছে।। আজ বিহান বুঝেছে ইমনের এই অবস্হার জন্য একমাত্র সেই দায়ী ৷ একটু সুখের জন্য স্ত্রী ধোঁকা দিয়ে তিলোত্তমার সাথে সম্পর্ক করেছিল কিন্তু সেও তাকে ব্যবহার করে সরে পড়েছে আর ইমন অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে ৷ এখন শুধু বিহান চেষ্টা করে যাচ্ছে নিজের দুহাতের মধ্যে বালি গুলোকে মুঠো করতে রাখতে কিন্তু বালি ফাঁক পেলেই ঝরে যাচ্ছে তবু বিহান আপ্রাণ চেষ্টা করে তাসের ঘর আগলাতে ৷৷ইমনের নিস্তেজ স্হির দৃষ্টি বিহানকে অনুশোচিত করে ৷