আজকাল প্রায়শঃই একটা কথা শুনি পরিচিত বা অপরিচিত অনেকেরই মুখে ৷ একদম ভালো নেই ,খুব মনখারাপ ৷ দিন দিন ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছি ,কিছুই ভালো লাগছে না , মরে গেলেই ভালো হয় বা এইধরনেরও কথা শুনি প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে বা পারিবারিক অশান্তিতে বা কর্মক্ষেত্রে চাপে অথবা অন্য কোনো কারণে কেউ আত্মহত্যা বা সুইসাইড করেছে ,করতেই পারেন তারা যাদের পালিয়ে যাবার মনোবৃত্তি থাকতে সমস্যা থেকে বা দুর্বল মানসিকতার হন কিন্তু আপনি তো চলে গেলেন সব কিছু ছেড়ে কিন্তু আপনার পিছনে যাদের রেখে গেলেন তাদের কোন অবস্হায় রেখে গেলেন একবারো কি ভাবেন ! আপনার মা যিনি আপনাকে গর্ভে ধরেছেন তিনি কি করে সহ্য করবেন আপনার এই চলে যাওয়া ৷ আপনার বোন ,দিদি ভাই বাবা ,বন্ধু বান্ধব প্রেমিকা বা স্ত্রী উলটো দিকে কোনো মেয়ে হলে সবটাই আপেক্ষিক ভাবে বদলে যাবে তারাও কি মেনে নিতে পারবে আপনার এই শূন্যতাকে ??
আপনার যদি কখনও আত্নহত্যা করতে মন চায় তাহলে এক কাজ করতে পারেন,পকেটে কিছু টাকা নিয়ে কিছুদিনের জন্য হাওয়া হয়ে যান, একদম হাওয়া কেউ যেন কেউ জানতে না পারে, পরিবার, বন্ধু-বান্ধবী প্রেমিক-প্রেমিকা কেউ না কোথায় যাচ্ছেন ৷মনের মতো করে জীবনের শেষ কটা দিন কোন দর্শনীয় স্থানে কাটান। ততদিনে হয়তো আপনার মনের ইচ্ছা বদলে যেতে পারে সময়ের মলমে ৷ আপনার বাড়ীর জন্য মন কেমন করতে পারে আপনি বাড়ী ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ৷ তখনই শুরু হবে আসল খেলা ৷ এরপর আপনি যখন ফিরে আসবেন, দেখবেন কোন কিছুই আর আগের মতো নেই, উপলব্ধি করবেন
ভয়ংকর কিছু একটা ঘটে গেছে আপনার প্রিয় লোকেদের সাথে ৷লক্ষ করবেন আপনার ভয়ংকর কড়া মেজাজের বাবা আপনাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শিশুর মতো কাঁদছেন, আপনার মাকে ইতিমধ্যে দু তিন বার হসপিটাল বা নাসিংহোমে ভর্তি করতে হয়েছে এবং চেহেরা পুরো ভেঙে গিয়েছে কোনরকমে জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছেন ।
আপনার আত্মীয়-স্বজন যারা আপনাকে চেনেও না তারাও আপনার খোঁজ নেওয়ার জন্য ফোনের পর ফোন দিয়ে যাচ্ছে, কেউ কেউ বাড়ীতেও চলে এসেছে।
আপনার ভাইবোন শক্ত করে জরিয়ে ধরে অাছে আপনাকে, কোথাও যেতে দিচ্ছে না আপনাকে, পরে যদি অাবার হারিয়ে যান কোথাও..!!
বন্ধুরা হঠাৎ করে কোথা থেকে এসে কলার চেপে ধরে বা মেয়ে হলে চুলের মুঠি ধরে ঝাঁকিয়ে দুমদাম দু’চারটা দিয়ে বলবে, “কোথায় হারিয়ে গেছিলি রে শয়তান !”
আপনার পরম শত্রুও দেখবেন আপনার খোঁজ নিতে এসে বলবে,কোথায় ছিলেএতো দিন.?
পাশের বাসার অান্টি যে মোটেও আপনাকে দেখতে পারতো না, আপনার দোষ খুঁজে বের করে সবার কানে দেওয়া যার স্বভাব,সেও বলবে,”বাবা বা মা এমনটা করে কেউ.?”
আপনার মনের মানুষটির দিকে যখন তাকাবেন, দেখবেন কতোটা যন্ত্রনায় তার হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, তার চোখের দিকে তাকাতে পারবেন না আপনি, ভয় পাবেন।
এই অল্পকিছুদিন আপনি না থাকাতে বুঝতেবুঝতেই
পারবেন পৃথিবীটা তার ভালোবাসা দিয়ে কিভাবে আষ্টেপৃষ্টে রেখেছে আপনাকে, যা কোনদিন আপনি বুঝতে পারেন নি।
এগুলো যখন একা একা বিছানায় শুয়ে ভাববেন তখন দেখবেন নিজের অজান্তেই ঝর ঝর করে চোখ দিয়ে জল ঝড়ছে।
এতো ভালোবাসা রেখে আপনি অার নিজেকে ধরে রাখতে পারবেন না আত্মহত্যা চুলোয় যাক, মনে মনে এটা হয়তো বলেও ফেলবেন,আত্মহত্যা কোন কিছুর সঠিক সমাধান হতে পারে না,কখনও না ৷
তাই বলছি বন্ধুরা মনখারাপ হলে বা মনে মেঘ জমলে খুলে কথা বলুন প্রিয়জনদের সাথে , বন্ধুদের সাথে ঠিক একটা সমাধান বেরিয়ে আসবে ৷ বাবা মা যতই কড়া বা রাগী হন না কেন তারাও আপনাকে বকলেও পরে ঠিকই আপনার পাশে থাকবেন ৷ তাই যেকোনো পরিস্হিতিতেই আত্মহত্যার কথা মাথায় না এনে কাছের লোকেদের সাথে আলোচনা করুন ৷ আর কিছু কিছু জিনিষ সময়ের উপর ছেড়ে দিতে হয় একটু ধৈর্য ধরে ৷ একটাই জীবন ৷ জীবনে ওঠাপড়া সুখদুঃখ কালের নিয়মেই ঘুরবে সেটা থেকে পালিয়ে না গিয়ে চ্যালেজ্ঞ হিসাবে নিয়ে এর মধ্য দিয়েই এনজয় করতে শিখতে হবে ৷ রাতের পর যেমন দিন আসে তেমনই সুখ দুঃখ ও পালা করে আসে, আমাদের শুধু একটু ধৈর্য ধরে থাকতে হবে ৷ প্রয়োজনে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ করতে মেডিটেশন করুন বা নিজের আয়ত্তের বাইরে চলে গেলে কাউন্সিলিং করান ৷ পরিবারের বা বন্ধুদের সাহায্য নিন কিন্তু জীবনকে শেষ করার কথা কখনো ভাববেন না ৷ সবাই খুব ভালো থাকবেন ৷ শীতের আমেজ উপভোগ করুন সব সাবধানতা মেনে ৷ সকলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা শুভকামনা ভালোবাসা জানাই ৷ আজ আসি —