গদ্যের পোডিয়ামে মৌসুমী নন্দী

গন্তব্য
একটা প্রতিশ্রুতি ভেঙ্গে গেলে শুরু হয় বোঝাপড়া ৷এ দুয়ের মাঝে যে বিরতিটুকু থাকে তার মধ্যেই গুছিয়ে নেওয়া ৷জীবনের গান, অনন্তের আশ্বাস।সবটুকু ইচ্ছেশক্তি দিয়েউল্টো দিক থেকে বয়ে আসা ভাবনাস্রোতে ভেসে যেতে যেতে একাকার হয়ে যাই, ভাল থাকি।চেনা রঙ একেবারে ধুয়ে যায় না কোনদিন
বুকে জুড়ে জমে থাকা ঢেউগুলি জোয়ার ভাঁটা বুঝিয়ে দিয়ে যায় ।কোন গানের সুর একাকি করে দিলেও
কোথাও না কোথাও মিলনের বাঁশি বেজে ওঠে আর সেটাই তো ভাল থাকার যথার্থ কারন ও উপকরণ।
জীবন আসলে একা একাই হেঁটে যায় গন্তব্যহীন
চড়াই উৎড়াই পাকদণ্ডী বেয়ে ৷ পতন আটকানো লাঠি অথবা শক্ত খুঁটি নিতান্তই জৈব উপদান ৷শিখরে আরোহণ শেষে সব ভুলে যাই স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ৷
সমগ্র অভিধান জুড়ে পাড় ভাঙে অনন্ত ঢেউ ৷ পেঁয়াজের পরত ছাড়াতে ছাড়াতে ভুলে যায় গন্তব্য ৷
একটু একটু ভাঙন চিকিৎসা করাতে গিয়ে স্বপ্নের জলছবি ভাঙি ৷বোকা বোকা অভিমানে মনখারাপ হয়. আবার বোকা বোকা ভালো লাগায় মন ভালো হয় ৷মনখারাপে বা ভালোতে মনের কোনো দোষ দেখিনা… সে বেচারা দুই এ তেই বড় কোণঠাসা হয়….খুব বেশী মনখারাপের রাতে আকাশের চাঁদটাকেও দেখে বড় হতাশ লাগে ,স্বপ্নসফরে যাবি বলে ডাক দেয় ,বলে ঘাসের জঙ্গলে জোনাকিরা আলোর মেলা বসিয়েছে যে!ধুপীর বনপথে ঝিঁঝিঁ ডাকছে,ফুলের গন্ধে চারিদিক ম’ ম’ করছে….না গো.. মন ভালো নেই বরং এখন বৃষ্টি পড়লে বাঁচি…..মাটির বুকে বড় অাবেগে পড়বে , ,অভিমানে আঁচড়াবে…..আর জলছবি আঁকবে মনের আকাশে ৷ বোকামি কে সে কটাক্ষ করে উড়ে যাবে নক্ষত্রলোকে….. থেকে যাই আর্বতে৷. নির্ঘুম অভিসার আছে…বুকের ওমে বেঁচে থাকা আছে… স্বপ্ন দেখা আছে..চিবুকে আঙ্গুল ছোঁয়ানো আছে,নীরবতায় তোমাতে মিশে যাওয়া আছে ৷