সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে মৌসুমী নন্দী (যাপন চিত্র – ৩৬)

যাপনচিত্র – ৩৬

গল্প নাই

কিছু খারাপ সময় সবার লাইফেই আসে ৷ আবর্তিত হয় দিন রাতের মত ৷ একটানা সুখ বা দুঃখ ভালো বা খারাপ কোনোটাই চলতে পারে না ৷একটা কিছু ঘটে গেলে সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করে দেখবেন যেটা হয়েছে সেটা পরিবর্তন করার সুযোগ আছে কিনা
যদি সুযোগ থাকে এবং সেটা জেনেও দেয়ালে পিঠ চাপড়ানোর মানে হল আপনি নিজেই এইভাবে থাকতে ভালোবাসেন এবং বদলানোর সুযোগটাও নষ্ট করে ফেলছেন ৷আর যদি ঘটনাটা পরিবর্তন করার কোন সুযোগ না থাকে তাহলে নিজেকে এভাবে বোঝাবেন যে আমি এটা পরিবর্তন করতে পারব না ৷ এটার সাথেই নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে ৷ আর যদি আপনি
“আমি এটা পরিবর্তন করতে পারব না “বাক্যটি বারবার নিজের ভেতরে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন তাহলেই দেখবেন বাক্যটি আপনাকে আমি এটা মেনে নিয়েছি র কাছে পৌঁছে দেবে ৷ তখনই আপনার পরিস্হিতি অনেক সহজ হয়ে যাবে এবং হাল্কা অনুভব করবেন ৷
আপনি যখন মেনে নিতে শুরু করবেন তখনই কষ্ট গুলো কমতে শুরু করবে কেননা কষ্টগুলোর জন্ম হয়েছিল আপনার মেনে নিতে না পারা থেকে বিষাদগ্রস্ত দিনে আনন্দের স্মৃতিচারণ কষ্ট বাড়ায় কিন্তু আনন্দের সময় কষ্টের স্মৃতিচারণ করলেও কষ্ট কমায় না ৷ তাই যদি মনের উপর আর পরিস্হিতির উপর নিয়ন্ত্রণ আনা যায় তাহলে সহজেই আমরা খাপ খাওয়াতে পারি পরিস্হিতির সাথে ৷
যেটা বিষণ্ণতা সেটা সব সময়ের জন্যই বিষণ্ণতা আপনি সেটা ভালো সময়ে ভাবুন আর খারাপ সময়ে ভাবুন সেটা আপনাকে বিষন্নতা ছাড়া আর কিছুই দেবে না ৷ তাই নিজেকে জলের মতন তৈরী করুন ৷ ব্যক্তিত্ব রাখুন , প্রয়োজনীয়তা বাড়ান কিন্তু মোহ বাড়াবেন না ৷নিজের উপস্হিতিটা লবণের মত করুন ৷ অতিরিক্ত কিছু না ৷ লবণ বেশী হলেও খাবার নষ্ট ,কম হলেও বিস্বাদ ৷ তাই পরিমাণ মত ব্যবহার করতে বা হতে শিখুন ৷ কষ্ট থেকে মুক্তি পাবার সব চাইতে সহজ উপায় হল কষ্ট সহ্য করা ৷কিছু কষ্ট তো থাকবেই আপনার বাবা বা মা বা কোনো প্রিয়জন মারা গেলে আপনি কষ্ট পাবেন না সেটা কী আপনি চান ৷ তবে সময় সবচেয়ে বড়ো মলম ৷ আস্তেআস্তে সব কষ্টই ফিকে করে দেয় ৷আপনার ব্যক্তিত্বেরর অধঃপতন কখন হয় জানেন ?যখন আপনি কতটা কষ্ট পাবেন সেটা আপনি না ঠিক করে দিচ্ছে অন্য কেউ একটা উদাহারণ দিই
একটা ট্রাফিক যখন হাতের ইশারায় সিগন্যাল দিয়ে সব গাড়ি আটকে দেয় তখন আটকে থাকা গাড়ি গুলোর ভেতরে সব চাইতে বেশি আফসোস করে কোন গাড়ির যাত্রীগুলো জানেন অবশ্যই যে গাড়ি গুলো সিগন্যালের প্রথম সারিতে থাকে তারা বাড়তি কষ্টটা এই কারণে পায় যে তাদের ঠিক আগের গাড়িটাই পার হয়ে গেছে বিড়ম্বনাই তার একমাত্র কষ্ট না সে থেমে আছে এই কষ্টটাকে ছাপিয়ে গেছে তার ঠিক পাশেরজন এগিয়ে গেছে এই ভাবনাটাই তাকে সিগন্যালে আটকে থাকা পেছনের অন্য যাত্রীদের চাইতে বেশি ভোগাচ্ছে ৷
লক্ষ করলে দেখবেন অধিকাংশ সময়ই নিজের থেমে থাকার জন্য না বরং অন্যকেউ কেন এগিয়ে গেছে এই নিয়ে আমরা একধরনের যন্ত্রণায় ভুগি ৷সেই অন্য কেউ যদি বিল গেটস হয় তাহলে আমাদের কিছুই আসে যায় না কিন্তু যখনই আপনার পাশের কেউ হয় তখন কেন এরকম শুড়শুড়ি লাগে জানেন কারণ আমাদেরকে বড় করাই হয়েছে একধরণের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ৷
অথচ জীবনটা এরকম কোন রেইস খেলা না যে কেবল যারা ফাস্ট সেকেন্ড থার্ড হবে তারাই মেডেল পাবে আর সব চাইতে পেছনে যে দৌড়াচ্ছে সে কিন্তু চাইলেই এভাবে ভাবতে পারে যে তার পেছনে কেউ নেই সে যদি এখন উল্টো দিক দিয়ে দৌড় শুরু করে তাহলে সেখানে সেই প্রথম হবে ৷ হ্যাঁ এইভাবেও ভাবা যায় আর যেদিন আমারা এইভাবে ভাবতে পারবো সেইদিন আর আমাদের কোনো খেদ হবে না ৷
যারা সাকসেস বা সাফল্য পেয়েছে তারা কিন্তু সবার দেখানো পথ ধরে সামনে এগোয় নি তারা নিজেরাই একটা পথ তৈরি করে নিয়েছে এবং সেইটাই হয় সাফল্যের চাবিকাঠি ৷
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!