কবিতায় মৌসুমী মণ্ডল দেবনাথ

আমার জন্ম ত্রিপুরায়। তবে বর্তমানে বিবাহসূত্রে কলকাতায় থাকি। উচ্চমাধ্যমিক অব্দি ত্রিপুরার ধর্মনগর উচ্চমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ার পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করি। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়, ব্লগজিনে লেখার পাশাপাশি আমার দু 'টো কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। কলিকাতা লেটারপ্রেস থেকে "রৌদ্রছাপা উঠোন" (২০১৬ সাল ) ও নীহারিকা প্রকাশনী থেকে "বাউণ্ডুলে পাখি " (২০১৮ সাল)।

মাই নেম ইজ গহরজান

বর্ষার এই গহন বিকেলের কাছে একা বসে পড়তে থাকি আত্মগোপনের চিঠি। কবে ছুঁয়েছিলাম এই বিষণ্ণ ডাকটিকিট, মনে নেই মনে নেই… নীল ফুলের গাছের তলায় কবেই ঘুমিয়ে গেছে রক্তাক্ত ছুরি হাতে ব্রুটাস। আকাশও পাল্টেছে মেঘ জমানোর রীতি… এসব দিনে জলফড়িংয়েরা শুধুই কাঁচের ঢেউয়ে কলমি ফুল আঁকে… ছবিঘরের পাশে চোখ বুজে শুয়ে আছে মুখচোরা সন্ধ্যামালতিরা। গহরজানের বৃষ্টিভেজা জোড়া ভ্রু ‘র তলায় নক্ষত্রেরা কাঁদে। নাকের পাটায় জোনাক জ্বালিয়ে একরোখা মেয়ে বলে উঠে, “মাই নেম ইজ গহরজান।” ঠুংরীর পরাগ ছড়িয়ে পড়ছে কলাবতী রাগের পাঁজরে, শিরা উপশিরায়। দোতলার ঘরের লাল ফরাসে। স গ প ণ ধ র্স ।। র্স ণ ধ প গ স ।। নাখোদা মসজিদে মাগরিবের আজানের সাথে মিশে যাচ্ছে ভালোবাসা না পাওয়া এক গোলাপী মেয়ের কান্নার তরঙ্গ। হে মা ‘বুদ, “ভালোবাসিবে বলে ভালোবাসিনে”…
এসব জুনের দিনে নাখোদা মসজিদের পাশে আজমগড় থেকে জারুলের পাতারা বাতাসে উড়ে আসে, শুয়ে থাকে গহর বিল্ডিংয়ের দেয়াল ছুঁয়ে। কোনও দিন এখানেই উঠেছিলো ঈদের চাঁদ ভাঙা ধূসর শ্লেটে। জোছনায় সেজেছিলো তারার মেহফিল।
রূপোলী মেঘের খোঁজে দু’টো তীব্র জেদী পা হেঁটে হেঁটে কবে যেন চলে গেছে খাদের কিনারা ধরে হৃদয় থেকে রাতের শূন্য স্টেশনের দিকে…
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।