।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় ময়ূরী মুখোপাধ্যায়।

বর্ণমালা

ওই ছবিটা আরেকবার আঁকতে চাই কিন্তু ওদের পাশাপাশি বসতে আপত্তি।
চব্বিশ ঘন্টা পরে থাকা লাল চশমাটা চোখ থেকে না খুলে আমার দিকে তাকালে আর কথা বলব না বলেছি বলে, ভীষণ আক্রোশে ক আমাকে খ এর দলে ঠেলে দিতে চায়।
ক জানে না, খ এর সঙ্গে আমার মুখ দেখাদেখি সেই কবে থেকে বন্ধ। খ কে শুধু বলেছিলাম, এরকম একরঙা গেরুয়া দেওয়ালের রেস্তোরাঁয় আড্ডা দিতে আমি আসব না।
খ ভাবে আমি সবুজ ভালোবাসি, তাই গ এর সঙ্গে আমার যত দহরম-মহরম। গ এর প্রিয় গাছটাকে কমপ্লিমেন্ট না দিয়ে গাছের ডালে বসে থাকা হলুদ পাখিটার ছবি তুলতে গিয়েছি বলে গ রাগে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সে কথা খ আর ক এর কানে এখনো পৌঁছায়নি বোধহয়।
ওদের তিনজনের সঙ্গেই আমার আলাপ ড্রয়িং ক্লাসে। মোম প্যাস্টেল পেরিয়ে সেদিন আনাড়ি হাতে তুলি ধরেছি সদ্য।
একই প্যালেটে লাল সবুজ গেরুয়া রং গুলেছি যেমন ইচ্ছে। কালো পেন্সিলে তাড়াহুড়ো করে আঁকা ভুলচুক নীল হলুদ গোলাপি বেগুনি হয়ে ঢাকতে থাকে। পেন্সিলের আউটলাইন ছাপিয়ে জলরং মেশে সাদা কাগজে।
ক খ গ ছবি দেখে নাম রেখেছিল, বর্ণমালা।
ওই ছবিটা আরেকবার আঁকতে চাই কিন্তু ওদের পাশাপাশি বসতে আপত্তি।

মরূদ্যানের জন্ম

শেষে তবে রুক্ষতারই প্রেমে পড়লে তুমি?
আকন্ঠ তৃষ্ণার্ত কোনো প্রাচীন মরুভূমি,
যেমন অসূর্যমপশ্য দিঘিজল লুকিয়ে রাখে বুকে।
আকাশ অন্ধ করা বালিঝড় থেমে গেলে,
অবাক চোখে দেখি, মরুদ্যান জন্ম নিচ্ছে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।