প্রায় সাত মাস লকডাউনের পর, হাওড়া খড়গপুর শাখায়,দুই চারদিন হ’ল লোকাল ট্রেন চালু হয়েছে।
গল্প সাঁতরাগাছির।আগে এক নম্বর মানে শালি মার লাইন কেবল সাঁতরাগাছি থেকে শালিমারে যাতায়াত করত।
এখন এই লাইনেই ছাড়ে দূরপাল্লার ট্রেন দুপাখা ছড়িয়ে।
আপে মানে হাওড়া থেকে আসা লোকাল ট্রেন ধরতে তেমন হ্যাপা ছিলনা।
টিকিট কাটো আর দুটো লাইন পায়ে পায়ে টপকে সিধে দু নম্বর প্ল্যাটফর্ম।
দীপা আজ সাঁকরাইল যাবে আবার ফিরবে ভেবে রিটার্ন টিকিট কেটে প্ল্যাটফর্মেে উঠতে যাবে,ভেবে দেখে তার ফুলে ফেঁপে ওঠা শরীরটার মত বিশাল সাঁতরাগাছি জংশন, শাখা প্রশাখায় বিশাল বপু বাড়িয়েছ।
প্ল্যাটফর্মেে ডানহাতি সাবেকী ওভারব্রিজেে উঠতে যাবে,এমন সময় আর.পি.এফ রে রে করে তেড়ে এসে উল্টোদিকে মানে বাঁদিকের নব নির্মিত ওভারব্রীজ দেখিয়ে দিল।
কি জ্বালা!কি জ্বালা! মুখে মাক্স, চোখে চশমা, চশমাটা আবার ভাপ লেগে বার বার ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।তাকে মোছ আবার পড়, সে এক যুদ্ধ কালীন তৎপরতা। অনেকটা দূরে লম্বায় চওড়ায় দশাশই ওভারব্রিজে উঠতে দীপার কালঘাম ছুটে গেল,হার্টবিট দারুণ জোরে পড়তে লাগল ধক্ ধক্ ধক্ ধক্ ।
বড় অসহায় লাগে এ সময়,মনে পড়ে কয়েক যুগ আগের কথা,তন্বী দেহে হাওয়ার বেগে রোজ ডেইলি প্যাসেঞ্জারী করে কলেজ যাওয়ার কথা। প্রেম মাখা সেইসব দিন স্মৃতিপটে জ্বলজ্বল করে ওঠে।
আনন্দঘন সে দিন শরীর মনে সুবাতাস বইয়ে দেয়,মনে পড়ে প্রেমিকের হাত শক্ত করে ধরা তার হাতে।
সে হাত নিরাপত্তা দিত খুব!
সেই প্রিয় হাত ধীরেধীরে আলগা হ’তে হ’তে কখন যেন ছেড়ে গেছে।
যাইহোক ঘামতে ঘামতে কাঁপতে কাঁপতে দু নম্বর প্ল্যাটফর্ম এ নামা গেল,
হটাৎ অষ্টাদশীর একান্ত আপন মিঠে আওয়াজ কানে এল,’পিসিমুনি দাড়াও, আমি আসছি’।
বলে ভাইজি ছুটে এসে ব্যাগটি নিজের কাঁধে নিয়ে আর এক হাতে যত্নে পিসীমুনি কে, ট্রেনে তোলে ।
গাড়ি সাইরেন বাজিয়ে চলতে থাকে কু ঝিক্ ঝিক, ঝিক্ ঝিক্।