কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে মুতাকাব্বির মাসুদ

বস্তুত মানুষ!
এই গ্রহে এখন মানুষের সাথে মানুষের প্রেম নাই
জ্ঞান নাই, দীক্ষা নাই, গুরুর প্রতি ভক্তি নাই
ঈমান নাই,বিশ্বাসের মূল নাই-ভালোবাসা নাই
বস্তুত মানুষই নাই !
পাখির ঠোঁটে শিস নাই,প্রজাপতির ডানায় ছন্দ নাই
ফুলে গন্ধ নাই, জলে ঢেউ নাই, নদী নাই,ঝরনা নাই
আকাশে তারা নাই,চন্দ্র নাই, সূর্য নাই
বন নাই,বৃক্ষ নাই’ বাঁচার উপায় নাই
ধর্ম আছে, বর্ণ আছে,গোত্র আছে
বস্তুত মানুষই নাই !
এই গ্রহে এখন নাম দিয়ে শিশুর পরিচয়
এই গ্রহে এখন নাম দিয়ে বৃক্ষের পরিচয়
এই গ্রহে এখন পাখির নামে পাখির পরিচয়
এই গ্রহে এখন কুঞ্জে কুঞ্জে বর্ণহীন
সাম্প্রদায়িক প্রজাপতির বিচরণ!
এখানে ধর্ম আনেনি নাম-নাম এনেছে ধর্ম
মানুষ আজ রাম-রহিমে বিভক্ত
বিস্ময়ের আরেক উৎস অদ্ভুত এই গ্রহ
জীবন প্রশ্নবিদ্ধ !’জল’ আর ‘পানির’ ভেতর ধর্ম বিভ্রান্ত আজ-মুখ থুবড়ে পড়ে রক্তের ভেতর
এখানে সমানে চলে ধর্মের সাথে ধর্মের প্রেম
ধর্মের সাথে ধর্মের প্রণয়
ধর্মের সাথে ধর্মের ভালোবাসা
ধর্মের সাথে ধর্মের অনিবন্ধিত রকমারি সম্পর্ক -মানুষের সাথে নয়
এখানে এখন ধর্ম দিয়ে যাচাই চলে
কে উঁচু-কে নিচু
কে শ্রেষ্ঠ-কে নিকৃষ্ট
এ গ্রহ ভুলেই গেছে
“সবার উপরে মানুষ সত্য,
তাহার উপরে নাই! “