T3 সাহিত্য মার্গ || ১৫০ তম উদযাপন || সংখ্যায় মালা মিত্র

এস পাল্টাই
আজ একটা ভাবনা নিয়ে লেখা শুরু করলাম,যদিও আমি সমাজ সংস্কারক নই,তবুও কিছু ব্যথা বুকে এফোঁড় ওফোঁড় করে।আমরা সবাই যারা এখনো জ্ঞানে আছি একটু একটু করে বানর সেনার মত সেতু হয়ত বাঁধতে পারি,মানুষে মানুষে। আমি ফেমিনিস্ট নই,উৎপীড়িতের দলে।’জীবে প্রেম করে যেই জন,সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ হ্যাঁ স্বামীজির একথা মানলে জীবনে প্রেম ভালবাসাই পরম সত্য। কিন্তু ক’জনের কপালে জোটে প্রেম, ‘হা প্রেম কোথা প্রেম ‘করে জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।
আমাদের মা কাকীমারা অনেক সন্তান নিয়ে যৌথ পরিবার নিয়ে কাটিয়েছেন,যৌথ পরিবারে বেশ কিছু সুবিধা আছে counciling করে কিছু ব্যাপার ম্যানেজ করা যায়, appointment নিয়ে মনরোগ বিশেষজ্ঞেরব কাছে লাইন দিয়ে একটা বেলা কেটে যায় না। তবু মা কাকীমারাই কি সুখের সপ্তম স্বর্গে বাস করতেন?একটা কথা আছে না ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় ‘সমাজের রক্তচক্ষুর বজ্র আঁটুনী তখন ও ছিল এখন ও আছে।
এই মেয়েদের কথাই ধরুন তারা আজ লেখাপড়া খেলাধুলা নাচ গান ঘর বার সবটাই সামলাতে পারে।এর মধ্যে যার কপাল ভাল সমমনস্ক বউ বা বর পায় লটারির টিকিট লাগার মত।
কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়,’যদিদং হৃদয়ং মম,তদস্তু হৃদয়ং তব’বলে আজ যদি কোন বিয়ে হয়,সব সময় কি হৃদি বিনিময় হয়?ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান,ইন্ডিয়া পাকিস্তান হয় আকচার।ভুল ধারণায় অপর পক্ষ অধিকার ফলায়,ভাবে আমিই সুপ্রিম কোর্ট।একতরফা ধারণায় তারা বাঁচতে দিতে চায়না অপরপক্ষ কে,অন্যজন কত কষ্টে আছে ভেবেও দেখে না। নিপীড়ের কষ্ট কেউ বোঝে না,না কাছের লোক না সমাজ। যদি কেউ সে কষ্টথেকে উদ্ধার পেতে চায় বাঁচতে চায় তার মত,এ সমাজ টুঁটি টিপে ধরবে,পাড়ায় পাড়ায় কাকীমা মাসীমার গোলটেবিল,এরাই পি টি আই,এরাই রয়টার, এরাই টাইমস অফ ইন্ডিয়া,এর ছেলে তার মেয়ে নিয়ে নিন্দা চর্চায় এরা অতিষ্ট করে তোলে নিপীড়িত মানুষটিকে,কার কবার বিয়ে হল,কবার ভাঙল এদের চর্চা র অন্যতম বিষয়,কথা শুনিয়ে মানুষটিকে এমন হেনস্থা করবে,হয় সে আত্মঘাতী হবে, নয়ত তিলে তিলে শেষ হবে বিষাক্ত সংসারে, মনোরোগী ও হতেই পারে।ব্যাপারটা নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান,একরকম বাড় খেয়ে ক্ষুদিরাম বনে যাওয়ার মত।
একটাই তো জীবন,হাতে গোনা বাঁচাকুচা দিন,বাঁচতে দিন নারে ভাই,স্বর্গ নরক তো কেউ দেখিনি,কষ্টের প্রাণটাকে সংসার নামক নরক থেকে উদ্ধার করুন (সবার কথা বলছি না) সমালোচনা করে নয় সমবেদনা থাক তার ওপর,’এ্যাই জানিস ওর দুটো বিয়ে,তার তিনটে বিয়ে,এই সব বালখিল্য ছেড়ে অত্যাচারিত বা অত্যাচারিতাকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন,ভাল করতে তো পয়সা লাগে না,উদার মানষিকতা লাগে।
আসুন আমরা অতি নম্রভাবে তাকে উদ্ধার করি কয়েদখানা থেকে। সেখান থেকে বেড়িয়ে সে চেষ্টা করুক একটু সবুজের,একটু অক্সিজেনের।
আমরাই সমাজ,দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করি,যে সহায়তা চায় তাকে সাহায্য করি। পরের বাড়ী পুড়ছে তো আমার কি?এ ভাবনা ত্যাগ করতে হবে।আজ যে আগুন অন্যের বাড়ীতে কে বলতে পারে সে দাবানল হয়ে আপনার ও বাড়িতে পৌঁছবে ও ছাড়খার করবে কি না আপনার সুখের ঘর। ধান ভানতে শিবের গাজন গাইলাম।
সুধীজন আসুন আমরা পাল্টাই,সমাজের একদিকের একটু আলোচনা না, পূর্ন ভাবে পাল্টাই রক্তপাত বিহীন।