“আজকের সকালটা ভীষণ ঝলমলে লাগছে তাই না মল্লিকা”হোটেলের রুমে ঢুকে লাগেজ গুলো রেখেই জানলার পর্দা গুলো সরিয়ে দিল অনিকেত। একটা সিগারেট ধরালো, আজ ও ভীষণ খুশী। চার বছর পর এই প্রথম মল্লিকা রাজি হয়েছে দুজনে দুজনের সাথে একান্তে সময় কাটানোর। ওয়েটার কে ডেকে দুপুরের লাঞ্চের অর্ডার টাও করে দিল।
-কি খাবে মল্লিকা?
-যা হোক কিছু একটা অর্ডার দিয়ে দাওনা।
-ওকে দু প্লেট মটন বিরিয়ানি আর চিকেন চাপ।
-এসবের আবার কি দরকার ছিল, জার্নি করে এসেছ, হালকা কিছু খেলে হতো না?
“-না হতোনা সোনা, আজ আমি ভীষন খুশী, আজ আর কিছু তে বাধা দিওনা প্লিজ” বলেই মল্লিকার হাতটা টেনে জড়িয়ে ধরতে গেল অনিকেত।
মল্লিকা যেন ঠিক সায় দিতে পারলো না, এক ঝটকায় নিজেকে কেমন গুটিয়ে নিল, অনিকেত তা টের পেল।
এই চার বছরে ওরা মানসিক ভাবে ভীষন ওয়েল কানেকটেড হয়েছে দুজনে দুজনের। কখন মল্লিকার মন খারাপ কখন ও রেগে আছে কখন ও অভিমান করেছে সবটাই বোঝে অনিকেত, আজও বুঝলো মল্লিকার ভেতরে এখনও কুন্ঠাবোধ কাটেনি। ও নিজেকে সামলে নিলো।
-ঠিকাছে মল্লিকা, নো ইস্যু, আমি আজো বলবো টেক ইওর টাইম, কোনো তারাহুড়ো নেই, আমি তো তোমায় ভালোবাসি, শুধুমাত্র তোমার শরীর ছোঁয়ার কামনা আমার নেই, থাকলে এ ক’বছরে অনেক সুযোগ কাজে লাগাতে পারতাম। তুমি যেদিন মন থেকে আমার কাছে আসতে পারবে এসো। আমি যখন এতো বছর তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি, বাকি জীবন টাও তোমার জন্য অপেক্ষা করবো।
-তুমি আমায় এত ভালোবাসো কেন অনিকেত! আমি
কি এত ভালোবাসার যোগ্য?
-অবশ্যই, তবে ভালোবাসার জন্য যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না, আমি তোমায় এমনিই ভালোবাসি, তার আবার কারন হয় নাকি? আমি কখনও তোমার ইচ্ছে কে অমর্যাদা করিনি আর করবো ও না…
মল্লিকা খানিক ফ্যালফ্যাল চোখে চেয়ে থাকে অনিকেতের দিকে, এবার নিজেই জড়িয়ে ধরে ওর বুকে মাথা রেখে বলে আমিও তোমায় ভালোবাসি অনিকেত। দুজনে আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে চেয়ে থাকে বাইরের কান্চনজঙ্ঘার দিকে, কি অপরুপ শোভা, কি ঝলমলে রোদ, সব কিছুই ভীষণ রঙিন আজ।