দিব্যি কাব্যিতে মালা মিত্র

যে দিন ভেসে গেছে
ছেলেবেলার দেখা সেই বালতি হাতে, দোরে দোরে ঘোরা শ্যাম শ্যামা সাজা,
সস্তার রঙে অপটু হাতে,
মায়া বহুরূপী,চমকে ছিল নতুন প্রাণ।
উনিশ পয়সার টিকিটে দেখা, পৌরাণিক কাহিনির পুতুল নাচ।
ঝ্যাঁকড় ঝ্যাঁকড়, বড় করতাল, বিউগলের শুরুর শব্দে যাত্রাপালা।
নিজের পিঠে ক্রমাগত ছড়ির বারি মেরে মেরে বালকের হাপু খেলা।
বর্ষার ছপাৎ ছপাৎ এক হাঁটু কাদা মাখা জল।
সূর্যের প্রবেশ নিষেধ, ঘন বাঁশবন,আলো আঁধারিতে, মাঝদিয়ে কবরস্থান,
রহস্য রোমাঞ্চ নিয়ে, একা একা ছুটে চলা ও-ই পথ ধরে,ভয়ে ফিরে আসা,সে বিস্ময় আজো টানে।
রোদ জল ঝড়ে, এপুকুর ও ডোবা তোলপাড়,
কতবার, মায়ের হাতে চুলের মুঠি, তবুও আবার।
নিজহাতে কেনা পাঁচপয়সার বাদামচাক্তির স্বাদ, কোথায় আর!
এখন তো ফুড কোড,ফুড প্লাজা, কে.এফ.সি,
হোটেল রেস্টুরেন্ট,
নব্য আবিষ্কারের স্বাদ জিভে নেই আর!
আজ পাপক্ষয় দিনগত, কবে আসবে আবার,
পুরনো সেদিন, নব্য আবিষ্কার।