কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে মঞ্জুরুল ইসলাম

ব্যস্ত সময়
গাছ পাখি নদী বাতাস মেঠোপথ
আকাশ পৃথিবী মৃত্যু এরা ব্যস্ত..
ব্যস্ত কালের স্রোত বিবর্তণের ধারায়
বদলে গেছে দিন বদলের খেলায়।
গাছের কাছে বললাম একটু ছায়া চাই
শীতল ছায়া..ঝটপট বলে দিল
ফাগুনের আগুন ঝরা আবেশে বিবর্ণ সময়
পাতা ঝরছে অপেক্ষা করো।
পাখির কলতান মুগ্ধ করে প্রাণ
ফাগুনের শেষ হাওয়ায় উড়তে চাইছে মন
পাখিসব চুপিসারে বলে গেল
শুনতে চাইলে গান অপেক্ষায় থেকো
আরও কটা দিন।
নদীকে বললাম জল দাও আমি তৃষাতুর
দ্রুতলয়ে বলে দিল চড় পরেছে বুকে চলছে খরা..
ফিরে যাও পথিক ফিরে যাও
তার চেয়ে ভালো এসো বর্ষায়
পান করে যেও যতোটা পারো।
ও বাতাস দাও না একটু শীতল পরশ
শ্বাস নিতে চাই প্রাণ ভরে..
গোমড়া মুখে বলে গেল
প্রকৃতি এখন তপ্তদাহে পুড়ছে
পুড়ছে হৃদয় অবিশ্বাসে
নিশ্বাসে বিষের ছোঁয়া ফিরে যাও অরণ্যে।
হাঁটছি আনমনে স্মৃতিময় মেঠোপথে
ভ্রান্ত পথিক এক!
পথের ক্লান্তি মুছে জানতে চাইলাম
কতদূর কতদূর আর সেই চেনা সুর;
যেখানে নাচে বাউলের একতারায় ফসলের ক্ষেত
মৃদু হেসে বলেদিল ফিরে যাও পথিক
এখানেও ছুঁয়েছে আজ নষ্ট অতীত।
আকাশকে বললাম একটু নীল আকাশ দাও
মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে ডানা মেলে উড়ি..
বিষাদের ছায়া ফেলে বিবর্ণ হলো পুরো আকাশ
ফিরতেই হলো অশান্ত পৃথিবীর বুকে!
ব্যস্ত পৃথিবী ব্যস্ত সময় ব্যস্ত যে যার মতো
অবশেষে মৃত্যু চাইলাম মৃত্যুর কাছে
হিমশীতল মৃত্যু!
সেও বলে গেল ফিরে যাও আজ
হবে না সময় হাতে
সে নাকি ব্যস্ত এখন যুদ্ধের ময়দানে।