কর্ণফুলির গল্প বলা সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে মনিরুল ইসলাম (পর্ব – ৪)
by
·
Published
· Updated
হেরফের
-কি পথ? কাল সকালে আমি মাস্টার ভার সাথে কথা বলি, ও নিশ্চয় একটা পথ বার করে দেবে।
রাত্রিটা কোনও রকম কাটিয়ে সকাল হতে না হতে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মাস্টারের বাড়িতে গিয়ে হাজির, তখনও মাস্টার ঘুম থেকে ওঠেনি ওদের ডাকাডাকিতে ঘুম ভেঙে বাইরে এল।
-কি হল, এত সকালে দুজনে একসাথে?
-মেম্বার শালিস ডেকেছে।
-কেন?
– আমার ছেলে নাকি নবাবের মেয়ের সাথে কি করেছে।
-হাঃ হাঃ হাঃ। কি করেছে ?
–তা কি আমরা জানি।
-তােমার ছেলে বাড়ি আছে ?
-হ্যাঁ আছে।
-তাহলে ওকে পাঠিয়ে দাও। আমি ওর থেকে শুনি।
-‘আচ্ছা ঠিক আছে’ – বলে দুজনে বাড়িতে গিয়ে ছেলেকে পাঠিয়ে দিল মাস্টারের বাড়িতে।
-চাচা আমাকে ডেকেছ?
-হ্যা, আমার ঘরে আয়।
রিন্টু জুতাে খুলে মাস্টারের পিছন পিছন ঘরে ঢুকলাে।
– বস। নবাবের মেয়ের সাথে কী হয়েছে তাের?
– না -মানে-
-আমাকে ঠিকঠাক বল, তাহলে আমি তােকে বাঁচাতে পারব, আর যদি না বলিস তা হলে তােকে অন্যায় স্বীকার করতে হবে। আর তাের বাপকে জরিমানা দিতে হবে। এখন তুই দেখ কি করবি।
– বছর তিনেক আগে ওর সাথে আমার প্রথম কথা হয়। তারপর থেকে একটা মােবাইল থেকে আমাকে মিল করত, আমি কলব্যাক করে ওর সাথে কথা বলতাম। একদিন ও আমাকে মােবাইল কিনে দেওয়ার কথা বললে আমি বােম্বে থেকে ফিরে এসে ওকে একটা মােবাইল কিনে দেই।
-তারপর?
-তারপর থেকে নিয়মিত ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমার সাথে কথা বলত। আমি ওকে প্রতি ইদে জামা কিনে দিতাম, হাত খরচের টাকা দিতাম। তারপর একদিন একটা ঘড়ি কিনে দিলাম। কিছুদিন পরে বলল একটা সাইকেল কিনে দেওয়ার কথা। আমি সেটাও দিয়ে দিলাম।
-এই পর্যন্ত কটা জামা কিনে দিয়েছিস?
-তা গােটা পাঁচেক হবে।
-বেশ ভালাে। এখন কী হল?
-এখন ও অন্য একটা ছেলের সঙ্গে প্রেম করে, আর আমি সেটা বলতে গেলে ঝামেলা বাধে।
– তুই কিভাবে বুঝলি ও অন্য ছেলের সাথে প্রেম করে ?
-আমি মােবাইলের সাথে যে সিম কার্ডটি দিয়েছিলাম সেটা এখন প্রায় সবসময় বন্ধ থাকে। আমি জিজ্ঞাসা করলে বলে, ফোনে কথা বললে আমার বাড়ি থেকে বকাবকি করে তাই আমি সিম বন্ধ রাখি, যখন সুযােগ পাই তখন তােমার সাথে কথা বলি।