ক্যাফে ধারাবাহিক গল্পে মনোরঞ্জন ঘোষাল (অন্তিম পর্ব)

টলিট্যাব আবিষ্কার
ঠিক তখনি ওদের বলা একটি কথা আমাদের মাথায় বজ্রপাত হানার মত আঘাত হানল।
ওরা বলছে- “প্রয়োজন হলে ওদেরকে শেষ করে ফেলতে হবে। তাহলে মাঝে মাঝে হলেও আর এই ঝামেলা আমাদের ভোগ করতে হবে না।” আমি সেই কথা শুনে তো হতবাক্! তবে কি এবার আমাদের ওপর ওদের আক্রোশ নেমে আসবে?
আমি তখন ডেনিয়লের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম। ও আমার মত কিছু একটা আশঙ্কা করছে। ভয়ে ওর মুখ একেবারে ছোট হয়ে গেছে। সে কান থেকে তাড়াতাড়ি স্পীকার টি খুলে ফেলে ঘরের দিকে ছুটে গেল! যেতে যেতে আমাকে বলল- “যা কিছু আছে হাতের কাছে নিয়ে সব পালিয়ে চল তাড়াতাড়ি! নইলে মারাত্মক বিপদ ঘনিয়ে আসবে এক্ষুনি!”
কানে আমি তখনো সেই স্পীকার লাগিয়ে রেখেছি। যেই না ডেনিয়ল কথা গুলো বলল, অমনি তারা বলছে- “বন্ধুরা তাড়াতাড়ি কিছু একটা ব্যবস্থা কর! ওরা পালিয়ে যাবার মতলব করছে! আমাদের খবর বাহিরের জগতে ছড়িয়ে দিয়ে বিপদ ঘটাবে!” আমি আরো অবাক হলাম! আমাদের বলা কথা বার্তা বা ইঙ্গিত ইশারা সব কিছুই ওরা বুঝতে পারে। এই খবর আমার জানা ছিল না। ওদের প্রাণ আছে তাই বলে এমন শ্রবন শক্তি আর বোধ শক্তি আছে তা কল্পনাও করতে পারা যায় না। আমি নিজের কানে না শুনলে বা নিজে না দেখলে অন্যের বলা কথায় বিশ্বাস করতে পারতাম না।
আমি আর সময় নষ্ট করলাম না! ঐ অবস্থাতেই মারলাম ছুট! গাছে সেই যন্ত্র থাকলো ঝুলে! ডেনিয়ল তো অনেক আগেই ছুটে গিয়ে জাহাজে চড়ে বসেছে! আমি লম্ফ দিয়ে জাহাজে গিয়ে পড়লেই সেটি ছুটতে শুরু করল! কোন রকমে আমরা দুজনে প্রাণ নিয়ে ফিরে এলাম। লম্বা হবার ওষুধ আর তৈরী করা হল না। পরে এ নিয়ে ভাববো।
আমি দরদী। গাছেদের কথা শুনে মনটি ব্যাথিত হল। তাই আর প্রতিশোধ নেবার কথা মনে এলো না। মনে হল ওরা থাকুক না দূরে একান্তে অন্তরালে। ওদেরকে আর বিরক্ত করে লাভ নেই।
জাহাজটি যখন বঙ্গ পো সাগরের কাছে এল তখন আমি ওই টিকে কোলকাতা বন্দরে নিয়ে যেতে বললাম। সেটি কোলকাতায় এলে আমি নেমে গেলাম। সেই ওর সঙ্গে আমার শেষ দেখা। আমি ফিরে আমার প্রস্তাবিত গবেষণায় মন নিবেশ করেছি। আর ও কী করছে তা বলতে পারবো না।
মনে হয় এখনো সে টলি ট্যাব আবিষ্কার করে উঠতে পারে নি। শেষ পর্যন্ত আমাকেই না হাত দিতে হয়!