গদ্যের পোডিয়ামে মৈত্রেয়ী ঘোষ

কথকতা

কথার জালে সামনে ওয়ালাকে ধরাশায়ী করা একশ্রেণীর মানুষের সহজাত সাবলীলতা। তোমার বক্তব্য সত্যি না মিথ্যে, তাতে স্বচ্ছতার পরিমাণ কতটা, এমনকি সম্পূর্ণ বক্তব্য শোনার ধৈর্য্যশীলতাও অনেকের থাকে না। তবে এসব বুঝতে না পারার অক্ষমতায় বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই তাদের, যারা কথার তোড়ে টপকে যান সম্মুখস্থ যাবতীয় সত্যতার শৃঙ্গ।
বস্তুতঃ কথা নিয়ে নিছক কথকতায় মেতে থাকাটা এক শ্রেণীর মানুষের সুচিন্তিত পরিকল্পনা স্বরূপ। তবে অপরপক্ষকে কথার ছলনায় তুমি যতই কুপোকাত করো, নিজের মনের কাছে তা এক বিরাট পরাজয় বহন করে আনে। মিথ্যা বাক্যে নিজস্বতা টিকিয়ে রাখা যায় না, তাই এরূপ বিড়ম্বনায় না যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। বরঞ্চ সহজাত ঐতিহ্য মিশ্রিত কথা যদি অপেক্ষাকৃত কম ওজনের‌ও হয় তবুও তা অপরপক্ষের অন্তরে প্রবেশ করবে।
‌ মনুষ্য জাতির কাছে কথাবার্তা হলো অপর পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের একটি শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। তাই লক্ষ্য রাখতে হবে এই মাধ্যমটি যেন কোনো অবস্থাতেই মূল্যহীনতায় না ভোগে।
কথাতেই আছে, যে তীর ধনুক থেকে একবার বেরিয়ে যায় আর যে কথা মুখ থেকে প্রকাশিত হয়, তা আর ফেরানো যায় না। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের অপরপক্ষের সাথে আলাপচারিতায় নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। তাই কথাকে “জাল” হিসেবে নয়, ব্যবহার করতে হবে একটি সুন্দর সচ্ছ “মাধ্যম” বা হাতিয়ার হিসেবে, এবং বলা বাহুল্য এখানেই কথা বা কথ্য ভাষার সার্থকতা।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।