মার্গে অনন্য সম্মান মিতা দাস বিশ্বাস (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১১৮
বিষয়-বোহেমিয়ান
তুলি
তুলি এবার ঠিকমতো বাঁচ। এরকম বোহেমিয়ানের মতো আর কতো দিন বাঁচবি?
কিযে বলো মা, আমি তো তোমার কথা মতোই চলি।
দেখ কোনো একটা ঘটনা একটা মানুষের জীবন এতোটা বদলে দিতে পারে না।আর আজকাল এসব নিয়ে কেউ কি অতটা ভাবে মা?
ভাবে মা ,সমাজ উন্নত হয়েছে বলে গলা ফাটালেও সেই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
তুলি তুই যা বলেছিস তাই করেছিস, আমি বাঁধা দিই নি।তুই বললি পি.এইচ.ডি করবি আমি করতে দিয়েছি । পড়াশোনা করিস আর বোহেমিয়ানের মতো ঘুরে বেড়াস।একা একা এই তীর্থ স্থান ওই তীর্থ স্থান ঘুরে বেড়াস।কে বলবে তুই মেয়ে সন্তান।একা একা সাতবার অমরনাথ গেছিস এবার তো সবকিছু ছাড়িয়ে গেছিস। অসুস্থ শরীরে তুই হেঁটে কেদারনাথ দর্শন করে এলি।কেন মা? কেন এমন উদভ্রান্ত হয়ে থাকিস?
উদভ্রান্ত কেন হবো মা?এটাই আমি। ভালো লাগে এরকম জীবন।গদে বাঁধা জীবন আমার ভালো লাগে না।
সংসার করবি না? কতদিন বাঁচব আমি? আমার কারনে আজ তুই এরকম আমি জানি।
কেন এমন বলছ মা? আমি এসব নিয়ে ভাবি না।আর আমার বাবা অন্য জাতের ছিলেন তাতে আমার তো কোনো অসুবিধা হয় না।
হয় তুলি, আমার সমাজ তোকে মেনে নেয় নি । আজো তুই সেই কষ্ট বয়ে বেড়াস ।মা বাবাকে আমি মিস করি । কেন যে চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে?
আমারই দোষ বোধহয়। দেখতে তো ভালো নয় । আমার রুপটাই তুই পেয়েছিস আবার । আমি দায়ী তোর এই স্বভাবের জন্য।
না মা আমার এরকম বাঁধনহীন জীবন ভালো লাগে।বিয়ে, সংসার, পুতুল খেলা এতো সব মেয়ে করে , আমি না হয় একটুখানি অন্যরকম।বিয়ে , বাঁধন এসব আমার হবে না তার থেকে এই বেশ আছি।আর কলেজে যে ইন্টারভিউটা দিয়েছিলাম তাতে আমি পাশ করেছি। কলেজের চাকরিটা নিয়ে আমি ভালো থাকব।
ওরে বাবা চাকরিটা হয়ে গেছে। এবার তবে ঘরমুখো হবি। ছন্নছাড়া জীবনটা এবার বদলাবে।
জানি না মা আমি বদলাবে কিনা , তবে এটাও আমার ভালোলাগা।