নব চেতনায় নারী মুক্তির
বিশেষ প্রযোজন ;
নারীরা কারোর বাঁদী নয়,
জেনো তোমরা সর্বক্ষণ!
স্বাধীন দেশে নারী কেনো
পাবে না মুক্তির আস্বাদন ?
সারাক্ষণ পরের অধীনে
নিজের স্বত্বা নেই কেনো?
হারিয়ে ফেলেছে বিশ্বাস!
ঠকুক নারী বারংবার,
চেতনা জাগুক মনে ;
সত্তা, শক্তির আধার সে,
জানুক জনে জনে।
যুদ্ধ করতে শিখুক নারী,
লক্ষ্মীবাই এর মতোন ;
ছেড়ে দাও তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে,
পরাজয় আসুক না যতো।
একদিন জিততে শিখে যাবে,
থাকবে না আর ভয় ;
সকল বাঁধা অতিক্রম করে,
আনবে ছিনিয়ে জয়।
আমার দুর্গা!
দশমিতে অনেকে কাঁদে, আমি কাঁদি না!
আমার দুর্গা বারোমাস থাকে,তার বিসর্জন হয় না!
আমার দুর্গা পরে না এক গা গহনা!
কোলে তার সন্তান ! এক হাতে খুন্তি, মাথায় তার সকলের মঙ্গল চিন্তা! সে কাঙাল শুধু একটু স্বামীর ভালোবাসার, আর কিছু চায় না ;, সে বাজার করতে করতে যায়, সে শ্বাশুড়ি মার সেবা করে!
সে যে ভারতীয় ললনা ; আমার দুর্গা বারোমাস থাকে, তার বিসর্জন হয় না! হাটে, ঘাটে পথে কোথায় নেই আমার দুর্গা, আমার দুর্গা কাপড় কাঁচে, বাসন মাজে আমার দুর্গা সর্বত্র বিরাজ মান!
দশমিতে সকলে কাঁদে, আমি কাঁদি না!
আমার দুর্গা নভোস্হলে হাঁটে, প্লেন চালায়, মেল চালায়, অফিস যায়, রিসার্চ করায়, ইলেক্টিকের পোষ্টে উঠে কাজ সেরে নির্বিঘ্নে নেমে আসে!
বুক ফাটে;তবু মুখ ফোটে না! আমার দুর্গা বারোমাস সব কিছু সহ্য করে নিজেকে শেষ করে দেয় ;তবু স্বামী, সন্তান, ভায়েদের শান্তনা দিয়ে এগিয়ে দেয় তাদের সাফল্যের পথে! পরে তাকে তারাই সামান্য ভুলে লাঞ্ছিত করে ; চোখ মুছে সে হাসে ;মনে মনে বলে তোমরা তো এগিয়ে গেছো, এটাই আমার বিশাল পাওনা!
পাথর হয়ে যায় সে সহ্য করে করে, অনাবিল অশ্রু বারি তে রোজ বালিস ভিজে যায় ; কেউ কি খোঁজ রাখে তার? আমি রাখি এই ভারতীয় মেয়েদের এটাই জীবনী ;জীবনের সন্ধ্যায় অনেক প্রবীনা মহিলা নিজে ব্যথার অনলে পুড়ে পুড়ে
অঙ্গার হয়ে যায় ; পাগল হয়ে যায় ; অনেকেই মেল ট্রেনে তুলে দেওয়া কথা শুনেছি! 😭 কেউ কি তার খোঁজ রাখো ? না! আমি রাখি, কতো মেয়েদের চোখের জল মুছিয়ে, তাকে, প্রেরণা দিই প্রায়ই !
সে এই চোখের জলের চট্ করে কাহাকেও ভাগ দিতে চায় না ; আমার দুর্গা বিসর্জন হয় না ; তাই অনেকে কাঁদে দশমির দিনে ; আমি কাঁদি না!