T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় মমতা ভৌমিক

দুর্গতিনাশিনী
দুর্ভাগ্যের কাছে মাথা নোয়াব না বলে অন্ধকার ভেঙ্গে পথ চলেছি একা
স্তরীভূত মেঘ ভেদ করে সটানে পৌঁছে গিয়েছি সূর্যের মুখোমুখি
চোখের জলের কোমল বিষ কন্ঠে ধারণ করে নিয়েছি আর
সযত্নে ব্যথার চিহ্ন মুছে তুলি দিয়ে এঁকে নিয়েছি নিজের ঠোঁটে অর্ধস্ফুরিত হাসিটুকু
যার রহস্য তুমি কোনোদিন কিনারা করতে পারোনি।
আমি সেই নারী যে কিশোরীর চাল ধোয়া হাতের গন্ধ নিয়ে পথিক হেঁটে গিয়েছে আজন্ম ভর
আমি সেই নারী যার মমতার আঁচলে মুখ গুঁজে বেমানান বয়সেও খুঁজে ফেরো সোঁদা মাটির ঘ্রাণ
আমি সেই নারী যে এক হাতে সংসার সামলিয়ে অন্য হাতে তুলে নিয়েছি ফসল কাটার কাস্তে
আমি সেই নারী যে রণে বনে জলে জঙ্গলে পিছু হটতে শিখিনি রক্তাক্ত ভোরে অথবা তমসাঘন রাত্রে।
শুধু তখনই আমার জন্য খুঁজো না পূজার উপাচার,
যখন শরতের মেঘ, আর্দ্র পৃথিবীর তন্বী শরীরে শিউলি ফোটে আর চার বছরের শিশু আমির অপরিণত শরীর ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করেও একাধিক সূঁচ পুরে দেয় কোনো বিকৃতকামী…
তখন জোগাড়ে যেও একশ আটটা পদ্ম যখন কাশ ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ আর সমস্ত রোজগার হাতে তুলে দিয়েও মদ্যপ স্বামী মারের পর মারে পঙ্গু করে মাটিতে ফেলে চেঁচিয়ে বলছে, “এবার ভাত দে শালী”…
সাজিও না নৈবেদ্য যখন একদিকে ঢাকের আওয়াজ আর অন্যদিকে আষ্টেপৃষ্টে আমার কৌমার্য্যকে আকন্ঠ পান করে রুধির ধারায় আমাকে সিক্ত করে আমারই দিকে আঙুল উঁচিয়ে কোনো পাষন্ড বলছে, “তুই নষ্ট নারী”…
আজ আমি শিক্ষিত, আমি আপন মন্ত্রে দীক্ষিত, আত্মবিশ্বাসের শিখরে দাঁড়িয়ে বলে যেতে চাই বার বার, তুমি নয়, আমিই তোমাকে ন’মাস গর্ভে ধারণ করেছি, তাই আমি জননী, এ আমার অহংকার ।
আমারই দশ হাতে সজ্জিত আজ দশটি কঠিন অস্ত্র
আমিই সেই ক্ষীণকটি পীনপয়োধরা মাতৃরূপেণ সংস্থিতা
তেজ দৃপ্ত ত্রিনয়নে আমার অসুরদলনী দৃষ্টি
আর কন্ঠ হতে উৎসারিত,
জয়, নারীত্বের জয়,
জয়, মাতৃত্বের জয়,
জয়, শিশুকন্যা থেকে বৃদ্ধা মাতার জয়
জয়, দুর্গতিনাশিনী দূর্গাদেবৈঃ নমঃ।