ধলেশ্বরীর অন্য ধারায় ভ্রমণ কাহিনী তে লোকমান হোসেন পলা

পবিত্র কোরআন নাজিলের পাহাড় হেরা পর্বত
জাবালে নুর বা নুর পর্বত। এই পাহাড়ের একটি বিশেষ স্থান গারে হেরা বা ‘হেরা গুহা’। যেখান থেকে সারা বিশ্ব মানবতার জন্য আলোর বার্তা নিয়ে এসেছিলেন— মহানবী (সা.)। এই গুহায় তিনি নবুওয়তের আগে ধ্যানমগ্ন থাকতেন। একদিন আচমকা হজরত জিবরিল (আ.) ওহি নিয়ে তার কাছে আসেন। সেখানে নবী করিম (সা.) নবুওয়ত প্রাপ্ত হন।
জাবালে নুরকে বিশ্ববাসী হেরা গুহার নামে চেনে। সবার কাছে এই পাহাড় হেরা গুহা নামে পরিচিত। এই পাহাড় মসজিদে হারাম থেকে দুই মাইল দূরে অবস্থিত। জাবালে নুরে অবস্থিত হেরা গুহাটি দৈর্ঘ্যে ১২ ফুট ও প্রস্থে ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি।
হেরা গুহায় উঠতে শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান মানুষদের প্রায় ১ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। উচ্চতা ২ হাজার ১০০ ফুট। যে হেরা গুহায় পবিত্র কোরআন নাজিল হয় সেটি পর্বতের ৮৯০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য ১২ ফুট ও প্রস্থ ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি।
হেরা গুহা পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় না হলেও সেখানে যেতে হলে পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় ওঠতে হয়। সেখানে ওঠা ছাড়া হেরা গুহায় যাওয়ার কোনো বিকল্প পথ নেই। পাহাড়ের চূড়া থেকে বিপরীত দিকে একটু নিচে অবস্থিত হেরা গুহায় যাওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ভয়ঙ্কর এমন পথ পাড়ি দিয়ে পাহাড়ের হেরা গুহায় পৌঁছাতে বেশ কয়েকবার বিশ্রাম নিতে হয়।
পাথুরে পাহাড়ের সুউচ্চ এই জায়গায় ধ্যান করতেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি রাসুল (সা.)
পাহাড়ের ওপর থেকে মসজিদের হারামের মিনার দেখা যায়। পাহাড়ের বড় বড় পাথরের ছোট ছোট ফাঁক দিয়ে লোকজন গুহার ভেতরে প্রবেশ করেন। গুহার প্রবেশপথ ছাড়া সবদিক পাথরবেষ্টিত। মেঝেতে রয়েছে পাথর খণ্ড, যেটা জায়নামাজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।