ধলেশ্বরীর অন্য ধারায় ভ্রমণ কাহিনী তে লোকমান হোসেন পলা

মেঘের ছোটাছুটি ডিম পাহাড়ে
ডিম পাহাড়। নামটি শুনে নিশ্চয়ই কৌতূহল জেগেছে! সে আবার কেমন পাহাড়! এই পাহাড়ের সৌন্দর্য নিজ চোখে না দেখলে বর্ণনা করা কঠিন।
দেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় দেশের উচু সড়ক বান্দরবানের থানচি-আলীকদমের ডিম পাহাড়। প্রকৃতির অনাবিল সৌর্ন্দয আর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা নিয়ে বান্দরবানের থানচি-আলীকদম ডিম পাহাড়। ডিমপাহাড় (Dim Pahar) এর অবস্থান আলীকদম এবং থানচি থানার ঠিক মাঝখানে। এই পাহাড় দিয়েই দুই থানার সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। খুব দুর্গম এই পাহাড়ে যাওয়ার কোন উপায় এতদিন ছিল না। সৌভাগ্যের ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আলীকদম থেকে থানচি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণে সময় লেগেছে ১০ বছর এবং নির্মাণকালীন বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ৩ জন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। তারমানে বুঝতেই পারছেন ডিম পাহাড়ের রাস্তা কতখানি দুর্গম।
ডিম পাহাড় এ যাওয়ার আগ্রহ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আরেকটা তথ্য যোগ করে দেওয়া দরকার। আলিকদম-থানচি আঞ্চলিক সড়ক এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবথেকে উঁচু রাস্তা। আলীকদম থেকে এই রাস্তা উপরের দিকে উঠেছে এবং ডিম পাহাড়ের কাছাকাছি রাস্তার উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ২৫০০ ফুট। আলীকদম উপজেলা থেকে ৩০ কিলোমিটারের দুরের থানচি-আলীকদমে ডিম পাহাড়ের পুরোটাই পাহাড়ী পথ।
কিভাবে যাবেন
রাতের বাসে চড়ে কক্সবাজার জেলার চকোরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরুন। সকালে চকোরিয়া পৌছে নাস্তা করে জিপে( চাঁন্দের গাড়ি) করে চলে যাবেন আলীকদম উপজেলায়। এখানে আলীর গুহা, রূপমুহুরী ঝর্ণা দেখে রওনা দিন বাংলাদেশের ২য় উচ্চতম সড়ক পথ দিয়ে ডিমপাহাড় এর উদ্দেশ্যে। ডিম পাহাড় ঘুরে সরাসরি চলে যান থানচি বাজার। এখানে খাওয়া দাওয়া সেরে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারেন অথবা থানচি বিজিবির রিসোর্টে অবস্থান করতে পারেন।
বান্দরবান থেকে যেতে চাইলে আগে লোকাল বাসে কিংবা চান্দের গাড়িতে করে থানচি বাজার চলে যান। এরপর এখান থেকে চান্দের গাড়ি কিংবা মোটরবাইকে করে ডিম পাহাড়।
দেখা ও লেখা বানন্দবান স্টিরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল হালিম ভাইয়ের ভালোবাসায়।।