ধলেশ্বরীর অন্য ধারায় ভ্রমণ কাহিনী তে লোকমান হোসেন পলা

বাচ্চাওয়ালী( তোপ )কামান

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার হাজারদুয়ারী প্যালেস চত্বরে দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষিত এ কামানটির দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট, ওজন ১৬ হাজার ৮৮০ পাউন্ড।

১৬৪৭ সালে তৎকালীন রাজধানী জাহাঙ্গীরনগরে তৈরি কামানটির নির্মাতা জনাধন কর্মকার নামে এক ব্যক্তি। কামানটির নামকরণের পেছনে রয়েছে এক বিস্ময়কর গল্প।
জানা গেছে, তৎকালীন সম্রাটের নির্দেশে কামানটি দিল্লি নিয়ে যাওয়ার পথে ভাগীরথী নদীতে নৌকা ডুবি ঘটে। এতে তলিয়ে যায় কামানটি। এর প্রায় দুইশ’ বছর পর ভাগীরথী নদী থেকে বালু তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার হাজারদুয়ারী প্যালেস নির্মাণের সময় পাওয়া যায় সেই কামানটি। তখন বাংলা বিহার উড়িষ্যার মনসদে ছিলেন মীর জাফরের পঞ্চম বংশধর হুমাউন জা। কামানটি তিনি পরবর্তীকালে হাজারদুয়ারীতে সংরক্ষণ করেন। হাজারদুয়ারী প্যালেস ও ইমামবাড়ার ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছে কামানটি। যা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করেন শত শত দর্শনার্থী।
এর নামকরণ নিয়ে পর্যটক গাইড হাছিমুল হক পার্কার জানান, কামানটি পাওয়ার পর নবাব হুমাউন জার নির্দেশে ১৮ কেজি বারুদ ভরে ফায়ার করার পর ঘটে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। কামানের শব্দে এর চারপাশের ১০ মাইলের মধ্যে যে সব নারীরা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তাদের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। সেই থেকেই এই কামানের নাম হয়ে যায় বাচ্চাওয়ালী কামান।
স্থানীয়রা মনে করেন, এই কামানের জন্য মায়েদের পেটে থাকা অসংখ্য বাচ্চাকে বলি দিতে হয়। তাই এটাকে বলা হয় বাচ্চাওয়ালী কামান।
তিনি আরও জানান, জনাধন কর্মকারের তৈরি চারটি কামানের মধ্যে একটি এখনও ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সংরক্ষিত রয়েছে।

কিভাবে যাবেন:—

শিয়ালদা থেকে লালগোলাগামী যে কোনও ট্রেনই মুর্শিদাবাদ যায়। দূরত্ব ১৯৫ কিলোমিটার। ভাড়া ৫০ থেকে ৭৫ টাকা, সময় লাগে ৫ঘন্ট। ভাগীরথী,
হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস, লালগোলা লোকাল সহ আরো অনেক ট্রেন রয়েছে শিয়ালদা থেকে মুর্শিদাবাদ য়ায়। এছাড়া
ও কলকাতা টার্মিনাল ষ্টেশন বাস ছেড়ে।
গঙ্গার ওপারে আজিমগঞ্জ জংশন এ নেমে নৌকায় এপারে আসা যাবে. কলকাতার শহিদমিনার থেকে প্রচুর সরকারি ও বেসরকারি বাস যাচ্ছে বহরমপুর। সকাল থেকে ১ঘন্টা অন্তর । সময় লাগে প্রায় ৬ ঘন্টা। বহরমপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মুর্শিদাবাদের লালবাগ। মুর্শিদাবাদে ষ্টেশন থেকে লালবাগ ও হাজারদুয়ারি আসতে হবে রিকশায় ভাড়া ৬০ টাকা টাঙা ৮০ টাকা।মুর্শিবাদ রেল স্টেশন থেকে অটো রিকসা বা ঘোড়ার গাড়ি করে মুর্সিবাদের ঐতিহাসিক স্থান গুলো দেখতে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় হয়ে যাবে।

কোথায় থাকবেন:—

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পর্যটক উন্নয়ন নিগমের বহরমপুর ট্যুরিস্ট লজ ভাড়া ১,৫০০ টাকা।এছাড়া অনেক হোটেল আছে, হোটেল রেমন্ড,ফেন্টাসি হোটেল,ভাই ভাই হোটেল,ফ্রেন্ড হোটেল,হোটেল মঞ্জুসা,হোটেল রাজলক্ষ্মী,হোটেল যাত্রীক,হোটেল অনুরাগ,প্রিয়ঙ্কা হোটেল রেস্টুরেন্ট,হোটেল আপায়ান, ইতাদি .সব হোটেল মোটামুটি ৫০০ টাকা থেকে ৩০০০টাকা পর্যন্ত।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!