T3 || কবিতা দিবস || বিশেষ সংখ্যায় লিপিকা ডি’কস্টা মণ্ডল

কবিতারা কথা বলে
কবিতারা কথা বলে যায় অনর্গল
অশক্ত আমি শুয়ে বসে থাকি
দুধ সাদা ছাদটাতে রামধনু আঁকি।
হৃদয়ের কোন কোণে বেদনার জট
বুঝিনা আমি…
আমার কবিতারা বোঝে ঝটপট।
শয্যা প্রান্তে জানলার ধারে পিঠ সেঁটে রই
তখন আমার দেওয়াল চাপা কন্ঠস্বর…
কবিতা হয়েই কথা কই।
বাকি শয্যা পড়ে থাকে বিস্তৃত খোলামাঠ
কবিতারা সেথায় শব্দ জব্দ করে
বসায় বর্ণমালার হাট।
সস্তা ছিটের জামা, তাঁতে বোনা গামছাগুলি
পৃথিবীর কাঁচারঙ ঢালি
জীবনের সহজ সরল সত্যগুলি অনায়াসে আনে তুলি।
প্রগাঢ় লালের ছোপ ঘিরে নীল নীল যন্ত্রণা
বুকে বিদ্ধ হওয়া বাক্যবাণ
সারাদিন হেদিয়ে মরা অযথা কুমন্ত্রণা…
সারা আকাশ ঘুরে ক্লান্ত চিলের জল খেতে আসা
কবিতার চোখ এড়ায় না
জলের ট্যাঙ্কি জুড়ে গৃধ্নু শিকারীর রাজকীয় বসা!
শীতে জবুথবু তবুও মাথার উপরে ফ্যান
তিনটি ব্লেড মনে করায় ত্রিব্যক্তির ধ্যান
রহস্যাবৃত মিথ সনাতন হিন্দুর কিবা খ্রীস্টান।
আমার কবিতারা কত সহজে করে দেবে সমাধান
মাধুরী নামের মেয়েটি যখন ঘর শুকাতে
চালাবে জোরে পাখা বনবন…
পবিত্র ত্রিত্বের রহস্য হবে খানখান!
অথবা ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর,
পিতা পুত্র পবিত্রাত্মা… ট্রিনিটি
ত্রিব্যক্তি মিলে একই পরমেশ্বর!
কঠিন কথা সহজ করে বলতে পারে
মনের কুয়াশার চাদর সরিয়ে যুঝতে পারে
ভীড়ের মাঝে নিজেকে ঠিক খুঁজতে পারে।
মর্ত্যের বুকে মৃত্যুর চেয়ে বড়ো বন্ধু নেই
স্বর্গ নরক থেকেই বা কি… না থাকলেও দুর্গতি নেই
কবিতারা সোচ্চার হলে আমি মূক হলেও ক্ষতি নেই।।