বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন ধর্মীয় বিশ্বাসে
সত্যযুগের জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ঐতিহ্যে প্রাচীন,
স্বরূপানন্দ ঈশ্বর মাহাত্ম্য বর্ণনা পুরাণ সংহিতায়
রাধাবল্লব পুরুষোত্তম কেশব জগন্নাথ রূপাসীন।
জগন্নাথদেবই স্বয়ং পরমাত্মা সচ্চিদানন্দ
তিনিই দারুময় পুরুষোত্তম নারায়ণ,
স্বচতুর্মূতি জগন্নাথ বলভদ্র সুভদ্রা সুদর্শন চক্র
এই চারি রূপে করেন ভক্তের পাপমোচন।
আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে সুশোভিত রথে জগন্নাথদেবের গুণ্ডিচা গমন,
তিনিই রথারুঢ় বামন রূপে ভগবান শ্রীবিষ্ণু
এই রূপদর্শনে হয় না কারো ধরায় দ্বিতীয় জনম।
ভগবান জগন্নাথদেবের সেরা ধাম উড়িষ্যার পুরী
রথযাত্রায় পুণ্য লাভে মানুষের ভিড় যুগে যুগে,
রথের রশি টানার পুণ্যার্জন চিরকালীন
ভক্তগণ পাপমুক্তিতে হরিকীর্তন করে অনুরাগে।
রথযাত্রায় মিশে আছে প্রাণের ভক্তির আকুতি
পুরী মাহেশ কলকাতায় পালিত রথযাত্রা সমারোহে,
মহাপ্রভুর রথযাত্রার় মেলা বসে বহু স্থানে
মানুষে মানুষে মিলন ভববন্ধন মুক্তির মোহে।
সনাতন হিন্দু ধর্মীয় ধারণা মিশেছে রথযাত্রায়
নয় দিন উৎসব শেষে উল্টোরথে একাদশী,
ভক্তি প্লুত হরি ধ্বনিতে মাতে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে
খোল খঞ্জনিতে নৃত্য করে সকল পুণ্য বিশ্বাসী।
শ্রীরামপুরের মাহেশের রথও প্রাচীন ঐতিহ্যমণ্ডিত
কিংবদন্তি জড়ানো এক সুন্দর অলৌকিক গাথা,
চতুর্দশ শতকে ধ্রুবানন্দ নামে বাঙালি সাধু
মাহেশে জগন্নাথদেবের মন্দির প্রতিষ্ঠাতা।
কালীপ্রসন্ন সিংহের ‘হুতুম প্যাঁচার নকশা’য় কলকাতার রথযাত্রার জমজমাট বিবরণী,
মাহেশের রথের মেলায় হারিয়ে যাওয়া কিশোরী
সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসে রাধারাণী।
কালের চক্রে পৌরাণিক রথযাত্রার বহু বিবর্তন
মিশে গেছে একালে বৌদ্ধ সংস্কৃতির সাথে,
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেবদেবীর রথযাত্রায়
কিঞ্চন-অকিঞ্চন অভেদ উৎসবে সকলেই মাতে।