মার্গে অনন্য সম্মান খুশী সরকার (সর্বোত্তম)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১২৯
বিষয় – বৈশাখী
বৈশাখীর জন্মদিন
বৈশাখীর সবে পাঁচ বছর বয়স। কিন্তু ওর হাব ভাবে মনে মনে হয় দশ বছর বললেও বোধহয় কম হবে। ঝর্ণার মত চঞ্চল সে। পায়ে নূপুর পরে ঘুরে বেড়াই।বাড়িময় তার নূপুরের শব্দে ভরে থাকে।
আজ তার পঞ্চম জন্মদিন। খুব আনন্দ। একবার মা’র কাছে দৌড়ে গিয়ে বলে, “আজ আমার জন্মদিন?”তুমি আমার জন্য জামা কিনেছো?
“হ্যাঁ কিনেছি তো” চৈতি হেসে বলে।
“দাও দাও দেখি।” মায়ের হাত থেকে নতুন জামা নিয়ে “কি মজা কি মজা!” মা আমার জন্য জামা এনেছে বলতে বলতে দৌড়ে ঠাম্মির কাছে গিয়ে বলে,”এই দেখো আমার নতুন জামা।”
ঠাম্মি ঠোঁটে বিকৃত করে বলে, “অ্যা মা,জামাটা ভালো না।”
অমনি জোরে বলে বৈশাখী,”না ভালো। মা দিয়েছে না। খুব ভালো।”
“মা দিলে বুঝি ভালো হয়?”
“হ্যাঁ।” আচ্ছা বলতো, তোর নামটা কে রেখেছে?
মা রেখেছে।
“একটুও ভালো না”
না, খুব ভালো।
পাশে দাঁড়িয়ে এবার বৈশাখী বলে,
“তুমি আমাকে জন্মদিনে কি দেবে ঠাম্মি?”
“মা দিলেই তো হয়ে যায়।”
“না তুমি ঠাম্মি হও না, তুমিও আমায় দেবে জামা।”
ওরে পাকা বুড়ি, ঠাম্মিকে জামা দিতে হয় তাও তুমি জানো? “হ্যাঁ জানি তো।বাবাও দেবে।”
মিনতি তখন বসে বসে পান খাচ্ছিল।
ও ঠাম্মি, তুমি কি খাচ্ছো? মিনতির পান চিবোনোর দিকে তাকিয়ে নাক জোরো করে টেনে বলে গন্ধ!
“পান খাচ্ছি জর্দা দিয়ে।”
বৈশাখী চোখ বড় বড় করে বলে , জর্দা খাবা না ঠাম্মি, মা বলেছে খুব খারাপ।”
*যাও সোনা মা’র কাছে।বাবা আসবে যাও”মিনতি আদরের স্বরে বলে।
“বাবা পচা”জোরে চিৎকার করে বলে বৈশাখী
“একি সোনা,বাবাকে পচা বলে না।”
না না,পচা,পচা। মা’কে বকে।মারে।বাবার মুখে গন্ধ।
কড়া সুরে মিনতি বলে, “ওভাবে বলে না, বললাম না?”
শাশুড়ির চিৎকারের আওয়াজে ঘর থেকে চৈতি বলে,”কি হয়েছে সোনা?”
“ঠাম্মি,ঠাম্মি–”
এমন সময় অমিত টলতে টলতে ঘরে ঢোকে।চৈতি আবার বলে,”এসো সোনা,বাবা এসেছে।”
“না,যাবো না,বাবা গন্ধ” নাক চেপে ধরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে পড়ে।
“তুমি আজকেও ওই সব ছাইপাশ গিলেছো? আজকে মেয়েটার জন্মদিন। পাড়ার বাচ্চাদের বলেছি। তুমি আর শুধরাবে না দেখছি।”
“ছাড়ো না,ওকে ডাকো,ওর জন্য জামা এনেছি।”জড়ানো গলায় বলে অমিত।
“যাও আগে চেঞ্জ করে ভালো করে হাত মুখ ধুয়ে এসো
। তারপর ওকে কোলে নিয়ে নিজেই পরিয়ে দিও।”
অমিত ফ্রেস হয়ে বৈশাখীকে ডাকলে জড়োসরো হয়ে বৈশাখী দাঁড়িয়েই থাকে।
ঘর থেকে অমিত ইশারায় বৈশাখীকে ডাকলে মাথা নিচু করে বলে,”যাবো না।”
“এসো এসো,দেখো মা, তোমার জন্য কত সুন্দর জামা এনেছি।”
“না যাবো না।”
বিছানা থেকে নেমে জোর করে বৈশাখীকে কোলে নিতে গেলে বৈশাখী দৌড়ে ওখান থেকে পালিয়ে যায়।
এখন বুঝতে পারছো তো,ছোটো বাচ্চারাও সব বুঝতে পারে।আর শুধু পারে না,বেশীই পারে।ভালো-মন্দ বুঝে তারা কোলে যায়।বাবা হলেও তারা কিছু করতে পারে না বলে রাগ করে। তাদের রাগ অভিমান একটু মন দিয়ে বোঝা দরকার।
সন্ধ্যায় পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে বৈশাখী হৈচৈ করে জন্মদিন কেক কাটল। বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক গিফট পেয়ে হেসে কুটিপাটি। নূপুরের রিনিঝিনি শব্দে আর হাসির লহড়িতে গম গম করছিল বাড়িটা। এমন সময় অমিতকে আসতে দেখে চুপ হয়ে যায় বৈশাখী। জোর করে নতুন জামাটা দিতে গেলে ছুঁড়ে ফেলে দেয় বৈশাখী।রেগে অমিত চড় মারতে গেলে চৈতি ধরে নেয় হাতটা। বৈশাখীর বন্ধুরা ভয়ে চুপ হয়ে চেয়ে থাকে।
সন্ধ্যার সোনালী আভায় ফ্যাকাসে হয়ে যায় অমিতের মুখ
।চৈতি মনে মনে ভাবে, “এবার যদি শিক্ষা হয় তোমার।”