মার্গে অনন্য সম্মান খুশী সরকার (সর্বোত্তম)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১২০
বিষয় – অসহিষ্ণু
অসহিষ্ণু মন
জীবনের সাফল্য নির্ভর করে সহিষ্ণুতার উপর
অসহিষ্ণুতা জীবন হয়ে ওঠে বিষময়।
অসহিষ্ণুতায় আসে জীবনের সুখ শান্তি,
অসহিষ্ণু মনে জীবন বুদ্ধি ভ্রষ্ট বেদনাময়।
সংসারের পথ বন্ধুর ক্ষুরধার তীক্ষ্ণ,
সুখের পাশেই আছে দুঃখের হাতছানি।
নৈরাশ্য বেদনাই প্রয়োজন সহনশীলতা,
সুসভ্য মানুষের উৎসমূলে সহিষ্ণুতার কাহিনী।
যুগে যুগে সহিষ্ণুতায় পুরষকারের বিজয় ঘোষণা,
শ্রীচৈতন্য শ্রীরামকৃষ্ণ বিলে গান্ধীজী যীশু বুদ্ধ।
দুঃখ কষ্টের সমুদ্র মন্থনে করেছেন অমৃত সন্ধান,
অহিংস আন্দোলন গান্ধীজীর সহনশীলতার মন্ত্রে
ঋদ্ধ।
ছিন্নমস্তা শিক্ষায় আজ নেই ঈশ্বর ধর্মবোধ,
কল্যাণবোধের শিক্ষা নেওয়ার প্রতি অনীহা।
সমাজে সামাজিক অসাম্য রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন,
অতি যান্ত্রিকতায় পাপ পূণ্যবোধেরও বিস্ময়ে মুখ হা।
ন্যায়নীতির সততার ধার ধারে না আজ কেহ,
মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে দিকে দিকে।
প্রকৃত আদর্শের অভাবে কমছে সহনশীলতা,
মূল্যবোধহীন ঘটনায় যুবসমাজের রঙ ফিকে।
সমাজে আজ মানুষ মত্ত পারস্পরিক হিংসায়,
অনৈতিক খুন ধর্ষণ মারামারি চলছে অবিরত।
সুবিধাবাদী নীতিতে মানুষ যেন গিরগিটি,
অসহিষ্ণু চঞ্চল মানসিকতার পোষণ প্রতিনিয়ত।
আজ অসহিষ্ণু তার পন্থী সামাজিক পরিবেশ,
অর্থনৈতিক সমস্যায় ভেঙেছে একান্নবর্তী সংসার।
সহিষ্ণুতার সেই পাঠক্ষেত্র আজ নেই তেমন,
পারস্পরিক প্রীতি শুভেচ্ছা সহানুভূতির কই আর?
বর্তমান নাগরিক জীবনে বিশৃঙ্খলিত মানুষ,
দিনের পর দিন হচ্ছে উগ্র অসহিষ্ণু।
আজকের তরুণ সমাজের নেই সংযম শৃঙ্খলাবোধ,
তাই ধ্বংসের তাণ্ডব মত্ততায় তারা অসহিষ্ণু।
উৎকট আধুনিকতা বোধে নষ্ট হচ্ছে সুকুমার বৃত্তি,
অসহিষ্ণু অস্থিরতায় আজ মানুষ বেপরোয়া।
সমাজ পরিবার সব ক্ষেত্রেই নেই আর সহনশীলতা,
দলাদলির রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা যেন হাতের মোয়া।
ঈর্ষা বিদ্বেষে তৈরি হচ্ছে অশান্ত পরিবেশ,
নীতিহীন শিক্ষায় ইঁদুর দৌড়ের প্রতিযোগিতা।
নেই ন্যায়-অন্যায়বোধের কোনো মর্ম দংশন,
ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষের মধ্যে অসহিষ্ণুতা।
যান্ত্রিকতার বশে মানুষ আজ হৃদয়হীন গতানুগতিক,
হাজার মানুষের ভিড়ে মানুষে মানুষে বিচ্ছিন্নতা।
আত্মস্বার্থে ক্রমশই মানুষ হয়ে উঠছে স্বার্থপর,
অন্যকে সহ্য করতে না পারায় বাড়ছে অসহিষ্ণুতা।