সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ১৪)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা

চতুর্থ অধ্যায় – জ্ঞান যোগ

অন্তিম পর্ব – সামগ্রিক

শ্রী ভগবান: কাকে কর্ম বলে, কাকে অকর্ম বলে, এই নিয়ে বিবেকী ব্যক্তিগণও বিভ্রান্ত হন। তিনি সেই নিয়ে অর্জুনকে উপদেশ দেবেন। এর ফলে অর্জুন সকল সংশয় থেকে মুক্ত হবেন। কর্ম এক কঠিন তত্ত্ব। তাই কর্ম, অকর্ম ও বিকর্ম সমন্ধে সঠিক ভাবে জানা প্রয়োজন। একমাত্র বুদ্ধিমান মানুষই সকল কর্মের মাঝে আবদ্ধ থেকেও, চির দার্শনিক, চিরমুক্ত।
তিনি অর্জুনকে আরো বলেন যে কর্মের প্রতি তাঁর অধিকার। কর্মের ফলের ওপর তাঁর কোনও অধিকার নেই। যিনি তাঁর সকল কর্ম তাঁর চরণে সমর্পিত করেন, তিনি সকল প্রকার কর্মের বন্ধন থেকে মুক্ত হন। সকল প্রকার অজ্ঞানতা তাঁর বিনষ্ট হয়। কোনো প্রকার পাপ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে। অর্জুন অবাক হলেন। তিনি ভগবানের কাছে আরো উপদেশ দিতে অনুরোধ করলেন।
পার্থের মুখে এই কথা শুনে তিনি বলেন যে এই প্রকার ব্যক্তি সকল প্রকার সুখ ও দুঃখের উর্দ্ধে। তিনি সামান্যতেই সন্তুষ্ট। কোনো প্রকার পার্থিব উচাটন তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। কর্মের দ্বারা আবদ্ধ হন না।
যিনি কৃষ্ণভাবনায় নিজেকে নিমগ্ন থাকেন, তিনি সকল সময় চিন্ময়। তাঁর উপাসনা, কর্ম- সকল উদ্দেশ্য এক চিন্ময় স্তর লাভ করে।
কেউ কেউ আদি ইন্দ্রিয়গুলিকে অগ্নিতে আহুতি দেন। আবার কেউ কেউ ইন্দ্রিয়রূপ অগ্নিতে সকল কামনা আহুতি দেন। তাই দানের রূপ বিভিন্ন। যোগ, তপস্যা ও অধ্যায়ন এর পথ ধরে আহুতির রূপ এক সঠিক বিস্তার লাভ করে। পাশাপাশি প্রাণায়াম, প্রাণবায়ু, ও অপানবায়ুর সাহায্যে আহার সংযম করেন কেউ কেউ । আহুতির এক নবদিগন্ত উন্মোচিত হয়।
এরা সকলেই জ্ঞানী, সকল প্রকার পাপ থেকে মুক্ত। পরিশেষে অমৃতের স্বাদ গ্রহণ করে, সনাতন প্রকৃতিতে ফিরে যান। যজ্ঞ বিনা কেউ সুখী হতে পারে না। তাই জ্ঞান ও যজ্ঞের মিশ্রণে অর্জুন মুক্তি লাভ করবেন। তাঁর সখা পূর্ণরূপে চিন্ময় জ্ঞান লাভ করবেন। সদগুরুর সেবা, তত্ত্ব জ্ঞান তাঁকে সুখ দুঃখের সমুদ্র পার হতে সাহায্য করবে। তাই জ্ঞানরূপ খড়্গের দ্বারা সকল আঁধার ছিন্ন করে নিষ্কাম কর্মের দিকে তাঁকে প্রেরণ করবে। সকল পার্থিব সংশয় ত্যাগ করে, জ্ঞানের প্রকৃত প্রদীপ জ্বালিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বলেন, কারণ তা ক্ষত্রিয়ের এক মাত্র ধর্ম। যুদ্ধবিনা তাঁর অস্তিত্ব নেই। এক শাশ্বত সত্য!

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!