গুচ্ছকবিতায় কুণাল রায়

পেশায় কলকাতার জর্জ গ্রুপ অফ কলেজেশের সহ অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি করছি। বিভিন্ন ইংরেজি পত্রপত্রিকা ছাড়া, ওয়েব পোর্টালেও লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বিদেশের একাদিক স্থান থেকেও লেখা প্রকাশিত হয়েছে। রামকৃষ্ণ ইনস্টিটিউট অফ কালচারের ইন্দোলজি বিভাগ থেকে পুরস্কার প্রাপ্ত। ইতিহাস, পুরাণ, কবিতা, সমাজ বিদ্যা ইত্যাদি বিষয় আগ্রহ আছে। অনুবাদক হিসেবেও স্বীকৃত। এর সাথে আমার এক কপি রঙিন ছবি পাঠালাম।

সেই তো ফিরে এলে

কোনও এক শ্রাবণে দেখা হয়েছিল তোমার সাথে,
বৃষ্টিভেজা শহরের কোনও এক প্রান্তে!
প্রথমে ভালোলাগা,
ক্রমে দূরভাসে কথা বলা,
এক রকম আপন করে নেওয়া!
ধীরে ধীরে ভালোবেসে ফেলা।
তারপর অফিস ছুটি নিয়ে-
দেখা করতে আসা,
সেই ওয়ান বি বাস স্ট্যান্ডের কাছে!
ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে থাকে,
বাড়তে থাকে তোমার প্রতি প্রেম,
যেমনটি বাইরে বেড়েছিল বৃষ্টি ও হওয়া!
বন্ধনের কোন পরিকল্পনা ছিল না,
সেদিন আমার!
তবে হয়ত ছিল তোমার।
সেই দৈনন্দিন সত্য:
কাউকে না জানিয়ে,
সুদূর মুম্বাইতে বিয়ে হল তোমার,
স্বপ্নের বাসা বাঁধলে নিজের চোখে,
বৈভবের চাকচিক্য ভুলিয়ে দিয়েছিল,
আমার সামান্য অস্তিত্ব!
জানি না এ কোনও দুর্বাসা মুনির অভিশাপ ছিল-
না অন্য কিছু!
স্বামীর উপেক্ষা,
ছেলেমানুষী আচরণ,
শ্বাশুড়ির কটুবাক্য,
অস্থির করে তুলেছিল তোমায়!
তবে সবই ছিল শোনা কথা।
বিশ্বাস করিনি প্রথমে,
নিজেকেই দুষে ছিলাম সর্বক্ষণ!
ঠিক মাস ছয় পর,
শুনলাম পাড়ার কাকুর কাছে,
মুম্বাই থেকে তুমি কলকাতায়,
অনুতপ্ত?
তখনও এই মন ভোলেনি তোমায়,
যোগাযোগে জানতে পারি প্রকৃত সত্য,
চোখের সামনে তখন সকল পুরনো স্মৃতি,
চোখের এক কোণে জমেছে জল,
ওপারে তোমার সিক্ত কণ্ঠস্বর!
বুঝলাম ফিরে এসেছ তুমি,
কেবল আমারই জন্য!
প্রেম যেন ফিরে পেল তার প্রাণ,
সম্মুখে অবিরাম জলস্রোত,
আর আমরা দুজনে শীতল বটবৃক্ষের নীচে,
বেঁধেছি আজ এক সুখের ঘর!!

শাহজাহান

ইতিহাসের প্রাঙ্গণে এক উজ্জ্বল উপস্থিতি তোমার,
মুঘল সাম্রাজ্যের এক অনবদ্য চরিত্র তুমি,
মহাবীর আকবরের এক যোগ্য উত্তরসূরি রূপে,
দিল্লীর মসনদে আসীন হয়েছিলে তুমি,
রাজদণ্ড হাতে নিয়ে,
শাসন করেছিলে আপন প্রজাদের,
আপন দর্প ও দাপটে সেদিন দেশবাসী ছিল- তোমারই অনুগামী!
তবে সেই সিংহাসন তোমার প্রাপ্য ছিল কি?
অন্যায় ও অবিচারকে আপন অস্ত্র বানিয়ে,
সকল ভ্রাতাদের হত্যা করেছিলে তুমি।
রুধীর রঞ্জিত সেই তরবারি আজও সাক্ষ্য বহন করে-
তোমার ছলনার,
ধিক্কার জানায় তোমার পৌরুষকে!
আকাশ বাতাস আজও বিদীর্ণ,
তোমার এই কলঙ্কিত পদক্ষেপে!!
কিন্তু মহাকাল চক্র ক্ষমা করেনি সেদিন তোমায়,
হায়! নিয়তির কি নিষ্ঠুর পরিহাস-
সেই আপন পুত্রের দ্বারা কারারুদ্ধ হয়েছিলে,
ইতিহাস তাঁর পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছিল সেদিন!
এক নিরুপায় পিতা তুমি সেদিন,
সকল শৌর্য বীর্য সেদিন অস্তমিত,
পড়ন্ত সূর্যের ন্যায়!
এই ধরণীর প্রথম আশ্চর্য নির্মাণকারী,
সেদিন এক নির্বাক দর্শক মাত্র!
তবুও ভারত সম্রাট তুমি,
ময়ূর সিংহাসন যার এক সম্পদ,
এক অহংকার,
এক মর্যাদা।
অমৃতের সন্তান তুমি,
নির্ভীকতার প্রতীক তুমি,
শাহজাহান তুমি,
বিশ্বজয়ী শাহজাহান তুমি!!
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!