সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ১৩)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
ভগবান বললেন যে উনি এই জ্ঞান যোগের কথা প্রথমে সূর্যদেবকে বলেছিলেন। সূর্যদেব মানব কল্যাণের উদ্দেশ্যে মনুকে বলেন এবং পরবর্তীতে মনু এই জ্ঞান ইক্ষাকুকে বলেছিলেন। এই ভাবেই এই জ্ঞান তত্ত্ব রাজর্ষিদের মধ্যে এক বিস্তার লাভ করে। কিন্তু কালক্রমে এই যোগ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
অর্জুন বললেন যে সূর্যদেবের জন্ম অনেক পূর্বে হয়েছে। তাহলে ভগবান কি ভাবে তাঁকে এই জ্ঞান প্রদান করলেন!
ভগবান বললেন যে তিনি বহুবার জন্ম নিয়েছেন। সেই কথা তাঁর স্মরণে আছে, কিন্তু তাঁর সখার নেই। যুগে যুগে তিনি তাঁর অন্তরঙ্গ শক্তিকে আশ্রয় করে আবির্ভূত হন এবং অধর্মকে বিনাশ করে পুনরায় ধর্মের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। যিনি তাঁর এই দিব্য বিভূতির কথা একবার শ্রবণ করেন তিনি সকল শৃংখল থেকে মুক্ত হয়ে, তাঁর পরম ধাম লাভ করেন। সকল রিপুর থেকে মুক্ত হয়ে, তাঁর এই জ্ঞান লাভের পর তাঁর প্রীতির পাত্র হয়ে থাকেন তিনি। তাই সকলের উচিত সর্বোতভাবে তাঁকে অনুসরণ করা। তিনি আরো বলেন এই সংসারে দেবদেবীর উপাসনার মাধ্যমে সকল সকাম কর্মের ফল প্রাপ্ত হয়। কোন কর্মই তাঁকে প্রভাবিত করতে পারে না। আমার প্রকৃত ভক্ত সকল প্রকার সকাম কর্মের বন্ধন থেকে মুক্ত। অতএব তিনি অব্যয়। তিনি অক্ষয়। সকল প্রথা ও বর্ণের ঊর্ধে তিনি। অতীতকালে সকল মুক্তজন তাঁর তত্ত্ব কথা মেনে নিজেদের কর্ম সম্পাদন করেছিলেন। অর্জুনও যেন তাই করেন।