সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ৩১)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা :
ত্রিয়দশ অধ্যায়ঃ: ক্ষেত্র ক্ষেত্রজ্ঞ বিভাগ যোগ : দ্বিতীয় ও অন্তিম পর্ব :
ভগবান বললেন যে সেই পরম তত্ত্ব সকলের বাইরে ও অন্তরে অবস্থিত। এই বিশ্বচরাচর তাঁর থেকেই উৎপত্তি লাভ করেছে। তিনি সূক্ষ্ম থেকেও সূক্ষ্ম। দূরে হয়েও আমাদের নিকট। তিনি অবিভক্ত। সর্বভূতের পালক ও সংহারক। তিনি প্রকাশ। সকল অন্ধকার ঘোচান। তিনি সকলের হৃদয় অবস্হিত। পরিশেষে তাঁর ভক্ত- বৃন্দ তাঁর ভাবই লাভ করে থাকেন।
ভগবান আরো বললেন যে প্রকৃতি ও পুরুষ – উভয়ই অনাদি। তাঁরা প্রকৃতির গর্ভ থেকেই উৎপন্ন হয়েছে। সকল পার্থিব কার্য কারণ বিষয়কে প্রকৃতিকে হেতু বলা হয়। তেমনই পার্থিব সকল সুখ ও দুঃখের ভোগ বিষয়ে জীবকে হেতু বলা হয়। প্রকৃতির গুণের সঙ্গ বশতই তার সৎ ও অসৎ যোনিসমূহে জন্ম হয়।
এই শরীরে আরো একজন পরম পুরুষ আছেন। তিনিই মহেশ্বর ও পরমাত্মা। যিনি এই রূপে পুরুষকে জানেন বা অবগত হন, তিনি পুনরায় এই জগতে জন্মগ্রহণ করেন না। সেই পরমেশ্বরকে কেউ জ্ঞানে, কেউ ধ্যানে, কেউ বা যোগের মাধ্যমে দর্শন করে থাকেন। কেউ কেউ আবার অন্যের নিকট শ্রবণ করেন। মোক্ষ লাভের অধিকারী হয়ে থাকেন।
তাই যা কিছু স্থাবর ও অস্থাবর, সবকিছু ক্ষেত্র ক্ষেত্রজ্ঞ থেকে উৎপন্ন হয়। যিনি এই জড়দেহে সেই অবিনশ্বর ঈশ্বরকে দর্শন করেন, তিনিই যথার্থ দর্শন করেন। তিনি কখনো নিজের মনের দ্বারা নিজেকে অধঃপতিত করেন না। এই ভাবেই তিনি পরমগতি লাভ করেন।
যিনি জানেন যে দেহের দ্বারা সকল কর্ম নিয়ন্ত্রিত করেন এই প্রকৃতি, তিনিই কেবল যথার্থ ভাবে ঈশ্বরকে দর্শন করেন। প্রকৃতি থেকেই সকল অস্তিত্বের বিস্তার ঘটে। যিনি এই ভাব প্রাপ্ত হন, তিনি ব্রহ্মভাব প্রাপ্ত হন।
এই ভাবকে অবলম্বন করে জীব এই আত্মাকে তাঁর প্রকৃত রূপে দর্শন করেন। এই কায়ায়ে অবস্থিত হয়েও আত্মা কিছু করেন না। কোন কিছুতেই লিপ্ত হন না।