সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ২৬)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা

একাদশ অধ্যায় : বিশ্বরূপ দর্শন যোগ: দ্বিতীয় পর্ব :

অর্জুন,ভগবানের সখা বিশ্বরূপ দর্শন করলেন। অর্জুন রোমাঞ্চিত ও আবেগে আপ্লুত হয়ে করজোড়ে ভগবানকে প্রণাম করে তাঁর ভজনা করতে লাগলেন।
অর্জুন এই বিশ্বরূপে সকল ঋষি, গন্ধর্ব, দেবদেবী, সর্প, বহু বহু, উদর, মুখ দর্শন করলেন। এক অনন্ত উপলব্ধি। শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম ধারণকারী শ্রী ভগবান বিষ্ণুকে তিনি সর্বত্র দেখলেন। তাঁর মুকুট গগনচুম্বী। এক পূর্ণ পুরুষ। কোটি কোটি সূর্যের ন্যায় জ্যোতি বিচ্যুত হচ্ছে। তিনিই পরম ব্রহ্ম। একমাত্র জ্ঞাতব্য। তিনিই পরম আশ্রয়। তিনি সনাতন। তিনি ধর্মের রক্ষক। তাঁর আদি বা অন্ত নেই। তিনি তাঁর আপন তেজে এই জগৎ আলোকিত করে রেখেছেন। তিনি এই ব্রহ্মান্ডের দশ দিক পরিব্যাপ্ত করে রেখেছেন। এই বিশ্বরূপ দর্শন করে অর্জুন কৃতার্থ হলেন। তবে এই ত্রিলোক অতীব ভীত ও সন্ত্রস্ত। সকলে তাঁর শরণাপন্ন। সকলে তাঁর দিব্য স্তুতি করে এই ধরত্রিকে কল্যাণ প্রদান করবার আকুতি জানাচ্ছেন।
অর্জুন এই ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় দর্শন করলেন। ভগবানের মুখে ধীরে ধীরে সকলে প্রবেশ করছে। তাঁদের চূর্ণীত মস্তক তাঁর দাঁতে লেগে আছে। সকল নদ নদী যেই রূপে সমুদ্রে প্রবেশ করে, তেমনি এই জরা সমৃদ্ধ জগৎ তাঁর মুখ গহ্বরে প্রবেশ করছে। তাঁর অসীম তেজরাশি এই পৃথিবী আবৃত করেছে।
অর্জুন তাঁর প্রকৃত রূপ জানতে চাইলেন। তিনি তাঁকে নমস্কার করে তাঁর প্রতি প্রসন্ন হতে অনুরোধ করলেন। ভগবান স্বয়ং আদি পুরুষ। তাই তাঁকে বিশেষ রূপে জানতে চাইলেন অর্জুন।
ভগবান বললেন তিনি মহাকাল। সমস্ত লোক সংহার করবার পবিত্র উদ্দেশ্যে তিনি অবতীর্ণ হয়েছেন। আস্বস্ত করলেন যে পঞ্চপাণ্ডব ব্যতীত অন্য কোন যোদ্ধা এই সমর ভূমিতে জীবিত থাকবেন না।

ক্রমশ…

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!