কিন্তু এ কেমন প্রস্তুতি,
কি রূপে মৃন্ময়ী মূর্তি,
সেজে উঠবে চিন্ময়ীতে!
চারিদিকে শুধু হাহাকার,
প্রাণের স্পন্দন আজ স্তম্ভিত,
মৃত্যু তাঁর করালবদনা রূপে,
গ্রাস করছে এই মনুষ্য অস্তিত্ব!
সূর্য আজ অস্তমিত,
কিংবা আবৃত শোকের কালো ছায়ায়!
স্বজন পরিজনহীন এক রমণী,
ধর্ষিতা আজ সমাজের বুকে!
কে শ্রবণ করবে তার আকুল প্রার্থিনা?
কে সংগ্রামে সাহায্য করবে তার ক্ষতবিক্ষত আত্মিক চেতনাবোধকে?
মানব না মহামানব!
দেবী না মহাদেবী!
অশ্রুসিক্ত নয়নে সে আজ আজ দ্বারে,
এক মাত্র প্রশ্ন তার,
পুজো কি শুধু তোমাদেরই,
আমাদের নয়!
কিন্তু নীরবে মিলিয়ে গেল তার কন্ঠস্বর,
পরে রইল একমুঠো ছাই,
এক অভিশপ্ত অস্তিত্ব রূপে!
যাদের সন্ধান কেবল সেই অন্ধকার গলিতে,
যাদের প্রতি রজনী অপেক্ষা করে থাকে-
এই পুরুষ সমাজের কামনাপূর্ণ দৃষ্টি,
যাদের দুমুঠো অন্নের প্রয়োজনে,
বিক্রিয় করতে হয় আপন অংশজাতকে,
দেবীপক্ষের বার্তা-
এক উপহাস মাত্র!
প্রকৃতির নিষ্ঠুর আচরণের মাঝেও,
শুনতে পাচ্ছি তাঁর পদধ্বনি,
কোথাও এই নিবিড় আঁধারের মাঝে,
লুকিয়ে আছে এক চিলতে সুখের বাতি!
দুঃখ তবু অবিরাম,
তার অট্টহাসি অব্যাহত,
এই বসুন্ধরার মাঝে!
বন্ধন মুক্তি এক মাত্র
অভিপ্রায় আজ!
শৃঙ্খল মোচনে,
ফিরে আসুক সেইদিন,
সোনাঝরার মাঝে!!