দেখতে দেখতে আজ মাতৃবন্দনার পঞ্চম এবং শেষ দিন উপস্থিত। বিজয়া দশমী। মায়ের কৈলাশে ফিরে যাওয়ার পালা। তাই মন আজ ভারাক্রান্ত। কিন্তু কিছু করবার নেই। সময় যে বড় নিষ্ঠুর আজ, এই ক্ষণে!
প্রধানত উত্তরপূর্ব ভারতে আজকের এই দিনটি উৎসবের দশম দিন রূপে পালন করা হয়। উল্লেখ্য এই দিনই শ্রী রামচন্দ্র রাবনকে বধ করে সীতাকে উদ্ধার করেছিলেন লঙ্কার অশোক বন থেকে ও অযোধ্যা এ ফিরে এসেছিলেন দীর্ঘ সময়ের পর।
অন্যদিকে আমাদের এই প্রাণের বাংলায় আজকের এই শুভ লগ্নে দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয়, প্রধানত ভাগীরথীতে, খুব ধুম ধাম করে। এছাড়া সিঁদুর খেলা তো আছেই বিবাহিত মহিলাদের মধ্যে মণ্ডপে মণ্ডপে। সিঁধুর খেলার এই প্রথার উল্লেখ আমরা মূলত “কালিকাপূরাণে” পেয়ে থাকি। কোলাকুলি ছাড়াও পাত্রে রয়েছে ছোটদের প্রণাম ও বড়দের আশীর্বাদ। মিষ্টি বিতরণের পাশাপাশি রয়েছে নির্ভেজাল আনন্দ ও মজা,আগামী বছর মা যে আবার আসবে আমাদের মাঝে এই কথা ভেবে!
বিজয়া দশমীর ঠিক পরের পূর্ণিমায় মা কমলার উপাসনা হবে ঘরে ঘরে। মায়ের কৃপায় শ্রী ও সৌভাগ্য বৃদ্ধি পাবে এই কামনাই করি। এর পরের অমাবস্যা-তে মহাকালীর পূজা। শক্তির আরেক অবতারকে উপাসনা করে হব আমরা ধন্য। ঠিক শেষ পাতে রয়েছে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া। তাই মন খারাপ হলেও, উৎসবের বাতাবরণ এখনও বেশ কয়েকদিন থাকবে আমাদের সঙ্গে।
আর কিছু মুহূর্ত পরেই, আবার দিন গোনা শুরু হবে, আগামী বছর কবে ও কখন আমরা আবার মাতৃআরাধনায় নিজেদেরকে উৎসর্গ করব! সবাই খুব ভালো থাকুন, সুখে থাকুন ও আনন্দে থাকুন। শুভ বিজয়া দশমী।