সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ২৯)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা:
দ্বাদশ অধ্যায় : দ্বিতীয় ও অন্তিম পর্ব :
ভগবান অর্জুনকে বললেন যে সকল কর্ম তাঁর পায়ে সমর্পণ করতে এবং সংযতচিত্তে কর্মের ফল ত্যাগ করতে। যদি এই প্রকারেও অভ্যাস করতে সক্ষম না হন, তবে জ্ঞান যোগের মাধ্যমে তাঁকে প্রাপ্ত করবার চেষ্টা করেন। জ্ঞানের থেকে ধ্যান শ্রেষ্ঠ এবং ধ্যান থেকে কর্মফল ত্যাগ শ্ৰেষ্ঠ, কারণ এই প্রকার কর্মফল ত্যাগে শান্তি লাভ হয়।
ভগবান আরো বললেন যে ব্যক্তি সকল জীবের প্রতি সমভাবপন্ন, যাঁর কারও প্রতি দ্বেষ বা ক্লেশ নেই, যিনি সুখ বা দুঃখে বিচলিত হন না, যিনি তাঁর সকল কর্ম তাঁর পায় অর্পণ করেন এবং সদা সেই পরমেশ্বরের ভাবে লীন হয়ে থাকেন, এমন ভক্ত তাঁর প্রিয়। যিনি কারও দ্বারা উদ্বেগ প্রাপ্ত হন না, হর্ষ, ক্রোধ ও ভয়ের থেকে চিরমুক্ত, তিনি তাঁর অতীব প্রিয়।
তিনি আরো বলেন যে যিনি নিরপেক্ষ, শুচি, দক্ষ, উদাসীন, উদ্বেগশূন্য এবং সকল কর্মফল ত্যাগী, তিনি তাঁর অতীব প্রিয়। যিনি প্ৰিয় ও অপ্রিয় বস্তুর প্রতি সমভাব জ্ঞাপন করেন এবং শুভাশুভ সকল কর্ম পরিত্যাগ করতে সমর্থ ও ভক্তিযুক্ত, তিনি তাঁর অত্যন্ত প্রীতির পাত্র।
যিনি শত্রু মিত্রের প্রতি সমবুদ্ধি সম্পন্ন, যিনি মান অপমানে, সুখ দুঃখে, শীত গ্রীষ্মে ও নিন্দা এবং স্তুতিতে এক সমভাব প্রকাশ করেন, তিনি তাঁর অতীব প্রিয়। স্থিরবুদ্ধি সম্পন্ন এবং তাঁর
প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত সকল ব্যক্তি তাঁর প্রিয়।
এই জ্ঞান সমুদ্রের কথা অমৃত্সম। যিনি শ্রবণ করে জীবনের মূল উদ্দেশ্য খুঁজে পান, তিনি তাঁর অতীব প্রিয়!!