চাকরি পাওয়ার চিঠিটি যেদিন হাতে পেলাম সেদিন মনের অবস্থা যে কেমন তা বোঝাবার মতো ভাষা আমার জানা নেই। যখন কলেজে পড়ি তখনই বন্ধুরা একটা চাকরি পাওয়া নিয়ে খুব আলোচনা করত। বলত, একটা চাকরি পেতেই হবে। বুঝতাম আমার মতো সকলেরই একটি চাকরি পাওয়ার খুব দরকার। তেমন বন্ধু আমার ছিল না যাদের চাকরি না হলেও চলে যায়।
ইছাপুর থেকে শ্যামবাজারের কলেজে যাতায়াত করতে হত। তাই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার জন্য কারও সঙ্গে তেমন করে মেলামেশা করার সুযোগ ছিল না। ট্রেনে যাতায়াত করা ছিল খুব কষ্টকর। শুনতে পাই এখনও এত বছর বাদে সেই কষ্ট একইরকম আছে।
যে অফিসে চাকরি পাওয়ার নিয়োগপত্র হাতে পেলাম সেখানে আমি আগে দু’বার গিয়েছিলাম ইন্টারভিউ দিতে। তবু আমাকে নিয়োগপত্রে যেদিন যেতে বলা হয়েছিল তার আগে একদিন গেলাম অফিসটিকে দেখতে। যে দু’দিন আমি গিয়েছিলাম তখন ভালো করে বুঝে উঠতে পারিনি কিভাবে গেলে সুবিধা হয়।
সেদিন শুধু অফিস দেখলাম বাইরে থেকেই। ভিতরে ঢুকলাম না। ফিরবার পথে হেঁটে রাস্তা চিনতে চিনতে শিয়ালদা গেলাম। তখন ওইসব পথ আমার অচেনা ছিল। তারপর ট্রেনে উঠে ইছাপুরে। বাড়িতে সবাই যখন জানতে চাইল কেমন অফিসটি। বললাম, ‘ভালো।’
এই অফিসে চাকরি করে এমন লোকের কাছে শুনলাম এখানে চাকরি করতে হলে মাঝে মাঝে মিছিলে যেতে হবে। যাবার ইচ্ছে না থাকলেও। আমার অফিসটি কেন্দ্রীয় সরকারি অফিস। সেখানে মাঝে মাঝেই চিৎকার করে দুঃখের পাঁচালী শোনান হত। কেন্দ্র আমাদের কিছু দিচ্ছে না। শুনে মনে হত ইস্ কেন্দ্র যদি দিত তাহলে আমাদের অনেক টাকা পয়সা হত। কত আরামে থাকতে পারতাম আমরা।
বছরে দু’বার ডিএ দেবার কিছুদিন আগে থেকেই মাঝে মাঝেই অফিসের মধ্যেই আন্দোলন হত। ডিএ দিতে হবে, দিতে হবে। আন্দোলন হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই কেন্দ্রের অফিস থেকে ডিএ দেবার অর্ডার আসত। তাতে সবাই মনে করত ভাগ্যিস আন্দোলনটা হয়েছিল তাই, না হলে হয়ত ডিএ পাওয়াই যেত না।
অনেক পরে অবশ্য এইরকম বাজার গরম করা আন্দোলন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কেননা কেন্দ্রীয় সরকার বিনা আন্দোলনে বছরে দু’বার ডিএ দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যা এখনও বহাল আছে।
ডিএ বাড়লে বা কোনো টাকা পয়সা পেলে ফাইটিং ফান্ডের জন্য টাকা নিতে আসত একটা ইউনিয়ন থেকে। টেবিলে একটি কাগজ ফেলে দিত। দলের মুখপত্র। পরে দেখেছি কেউ কেউ ওই কাগজ পেলেই মুখে বিড়বিড় করে কিছু বলত, তাপর সেই কাগজটি ফেলে দিত। বলতাম, ‘যদি ফেলেই দেবেন তবে কাগজ নিচ্ছেন কেন?’
আমার ওই কথার জবাব দিতেন না। বলতেন, ‘তুমি তো নিচ্ছ না। তা হলে অত কথা জানতে চাইছ কেন?’
আমি নিতাম না। আমার টেবিলে তা দিতেও আসেনি কেউ। বিনা বাক্যে যে সেটা করতে পেরেছিলাম এর জন্য নিজেকেই ধন্যবাদ দিতাম। এইরকম আমি একা নই আরও অনেকে ছিল। আমরা সবাই তখন নতুন চাকরি পেয়েছিলাম।
প্রথম যেদিন অফিসে গেলাম সেদিন অনেক কাগজে সই করার পরে আমাকে একটি সেকসনে নিয়ে গিয়ে বসতে বলা হল। কাজ যেমনই হোক মনে খুব উৎসাহ। সারাদিনের যতটুকু সময় থাকি যতটা পারি বেশি কাজ করি। অনেকে বলত প্রথম প্রথম ওই রকম হয়। আস্তে আস্তে ইচ্ছেটা চলে যাবে।
একদিন শুনলাম সরকার আমাদের উপর যত কাজ চাপিয়ে দিচ্ছে তা অতিরিক্ত। আমি যে অফিসে চাকরি পেয়েছিলাম সেখানে সাতশোর উপরে কর্মচারি ছিল। সাততলা অফিসের একটি ফ্লোর ছাড়া সবটাতেই আমাদের অফিস।
সব ফ্লোরে ইউনিয়নের লোকেরা ঘুরত। তারা লেকচার দিত। শোনাত বঞ্চনার ইতিহাস। সবাইকে বলত অল্প কাজ করতে। বেশি কাজ করা চলবে না। বেশি কাজ করা মানে কেন্দ্রীয় সরকারের অত্যাচারকে মদত দেওয়া। আরো অনেককিছু। সেইসময় অনেকে এসে টেবিলের পাশে দাঁড়াত। কেউ পাশে চেয়ার টেনে বসে পড়ত। যা বলা হচ্ছে তা শুনছি এবং সেইসঙ্গে মগজে ঢুকিয়ে নিচ্ছি কী না তা দেখবার জন্য।
না শুনতে চাইলেও তা জোর করে শোনাবার চেষ্টা।
কম কাজ করার নিদান দিতে দিতে একদিন দেখা গেল অফিস ছোটো হতে শুরু করেছে। কম কাজ করায় যে সমস্ত কোম্পানি সময় মতো পেমেন্ট পেত না। তারা একটু একটু করে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে অন্য প্রদেশে চলে গেল।
এই ধরণের আন্দোলনের ফল গোটা রাজ্যেই ফলেছিল। কত কল-কারখানা যে একটু একটু করে বন্ধ হয়ে গেল তার গোনা গুনতি নেই।
আমাদের অফিসে আর একটা রেওয়াজ ছিল। নতুন ছেলে মেয়েরা চাকরি করতে এলেই তাদের কাছে মগজ ধোলাই করার মেশিন নিয়ে কিছু লোক আলাপ করতে আসত। এই কথা সেই কথা তারপর মেহনতি মানুষ। ভিয়েতনামের আন্দোলনের ইতিহাস। চে, হো চি মিন। শুনতে শুনতে মাঝেই মাঝেই বলতে ইচ্ছে করত, ‘আরে দাদা কহনে ক্যা চাহতে হো?’
শেষ অবধি বলত তাদের ইউনিয়নের মেম্বার হওয়ার কথা।
যারা আসত তারা ইউনিয়নের নেতা। ইউনিয়নের মেম্বার করবার জন্য আপ্রাণ বোঝাত। এরপরের প্রক্রিয়াটা ছিল মিছিলে যেতে বলা। না গেলে নানাভাবে অসুবিধায় ফেলবার চেষ্টা করত। কোনোদিনই আমি ওদের কথা শুনিনি।
আমি কখনো সেইরকম অসুবিধায় পড়িনি। মাত্র একবারই আমার অসুবিধা করতে পেরেছিল। যে করেছিল বা যারা, তারা যদি নিজেদের নাম বলত তাহলে তাদের ওই কাজের যোগ্য পুরস্কার হয়ত দিতাম। যা জীবনে ভুলতে পারত না। নাম বলার সৎসাহস তাদের ছিল না।
সেই ঘটনাটা কোনোদিন ভুলব না। তখন কম্পিউটার চালু হবার কথা হচ্ছে। আমরা দু’ই বন্ধু নাম দিয়েছি ট্রেনিং নেওয়ার জন্য। ট্রেনিং হবে দিল্লিতে। আমরা এল টি সি বিল জমা দিয়েছি। সমস্ত প্রস্তুতি শেষ। ক্যাশে টাকা নিতে গিয়ে শুনলাম বিলটি পাওয়া যাচ্ছে না। অতএব আমরা টাকা পাব না। তখন হুট করে দিল্লি যাওয়ার মতো টাকা আমাদের কাছে ছিল না। থাকলেও বিষয়টিতে এতটাই অপমানিত হয়েছিলাম আর যাওয়ার ইচ্ছে হয়নি।
বুঝতে পেরেছিলাম যারা দেশে কম্পিউটার ঢুকতে দিতে চাইছে না সেই বিপ্লবীদের যে শাখাপ্রশাখা আমাদের অফিসে আছে তারা বিলটি নষ্ট করে আমাদের যাওয়া আটকাতে চেয়েছে।
তখন তাদের এমনই বিপ্লবী মনোভাব যে দেশে কম্পিউটার এলে লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে। যেন দেশকে বাঁচাতে তারা এমন মহান কাজটি করল। যদিও এসব অনেক পরের কথা। তার আগে বেশ কয়েক বছর ওই অফিসে কাটিয়ে দিয়েছি।
যে আমার কাছে এসেছিল ইউনিয়নের মেম্বার করতে তাকে এত কথা বলিনি যে, আমি ছোটোবেলা থেকে স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস ও নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনের সকালে সাদা জামা,প্যান্ট, জুতো পরে সকালে স্কুলে যেতাম। হাতে থাকত পাটকাঠির গায়ে লাগানো তেরঙা পতাকা। এভাবেই আমার মানসিকতা তৈরি হয়েছিল।
এর আগে একদিন মিছিলে যাওয়ার কথা বলবার জন্য একজন এল। যে বিষয় নিয়ে মিছিল তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলাম। সেসব নিয়ে কিছুই বলতে পারল না। শুধু বলল,অন্য কোনো দেশে একটি ঘটনা ঘটেছে তারই প্রতিবাদে মিছিল।
আমি বললাম, ‘যে জন্য মিছিলে যাব, চিৎকার করব সেই কণ্ঠস্বর তো ওই দেশের শাসক শুনতে পাবে না। অফিস খালি করে কলকাতার রাস্তায় যানজট করে বৃথা আস্ফালনে যাওয়ার আমার ইচ্ছে নেই। আমাদের এখানে অনেক সমস্যা আছে, তা নিয়ে ঠিক ঠিক ভাবলে তো হয়।’
যে এসেছিল আমাকে সেই মিছিল ও আন্দোলনের তাৎপর্য, মেহনতি মানুষের লড়াই, আমরা সেই দেশের মানুষের পাশে কিভাবে দাঁড়াতে চাই এসব নিয়ে নানা কথা বোঝাতে চাইল।
বললাম, ‘মেহনতি মানুষ কাকে বলে তা আমি আমার বাবাকে দেখে, আমার চারপাশের অনেক মানুষকে দেখে বুঝেছি। বাবা পরিশ্রম করতেন। কাজ করতে ভালোবাসতেন। একদিন তাঁকে ধর্মঘটের নামে বিচ্ছিরি ভাবে অফিসে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আমি কোন আদর্শের ছায়া দেখতে পাইনি। তাঁকে কিছু বোঝানো হয়নি অফিসে যেতে জোর করে বাধা দেওয়া হয়েছিল।’
যে আমাকে বোঝাতে এসেছিল বলল, ‘ওটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।’
বললাম, ‘আমার কাছে সেটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সেদিন বাবা যখন বাড়ি ফিরে এসেছিলেন তাঁর অপমানিত হয়ে ম্লান হয়ে যাওয়া সেই মুখ আমি কোনোদিনও ভুলতে পারব না।’
এখনও পারিনি। আজও যখন প্রতিদিনের ঘটনা টিভিতে বা খবরের কাগজে দেখি ও মনে মনে অপমানিত হই। তখন বাবার মুখ মনে পড়ে।
আমাকে সেদিন বলেছিল, ‘তাই বলে তুমি মেহনতি মানুষের সমর্থনে যে মিছিল তাতে তুমি যাবে না?’
বললাম, ‘আমি অবশ্যই মেহনতি মানুষের পক্ষে। তবে এই অফিসে চেয়ার টেবিলে বসে আমি ও আমরা যে কাজ করি তাতে আমাদের মেহনতি মানুষ বলা যাবে না। বিভিন্ন কলকারখানায়,ক্ষেতে গেলে দেখা যাবে ও বোঝা যাবে মেহনতি মানুষ কাকে বলে।’
লোকটি রেগে গেল। বলল, ‘খুব বড়ো বড়ো কথা শিখেছ? যা বলছি তাই করবে। কাল মিছিলে যাবে।’
লোকটির কথা বলার ভঙ্গিতে মাথায় রক্ত উঠে গিয়েছিল। বললাম, ‘যদি মিছিলে না যাই?’
‘তারপর মজাটা দেখবে কী হয়।’
‘কিছু করতে পারবেন না। আমি যেখান থেকে এসেছি সেখানে দু’বেলা আমার দু’পাশে বোমা পড়েছে। ওরকম দু’একটি বোমারু বিমানকে যদি আমার সমস্যার কথা বলি তবে মজাটা তখন আপনি দেখবেন। আপনার বাড়ি গিয়ে আলাপ করে আসবে।’ তখন মাথা এতটাই গরম হয়েছিল আরও কি কি বলেছি তা মনে নেই।
মিছিলে যাইনি। আমার এই কথা হয়ত কেউ কেউ জেনেছিল। ফলে একসময় ভয়ে মিছিলে যাওয়ার লোকের সংখ্যা কমে এসেছিল। ওই অফিসে ইছাপুর মানিকতলা থেকে একটি ছেলে আসত। একই সময় অফিসে যোগ দিয়েছি আমরা।
ও এসে একদিন আমার পিঠ চপড়ে দিয়ে বলল, ‘সাবাস। আছি।’
কিছুদিন বাদে আরও একজন বড়ো নেতা এলেন। এই কথা সেই কথার পর আমাকে মার্কস বিষয়ক কিছু কথা বলতে গেলেন। আমার ভালো লাগছিল না।
আমি বাধা দিয়ে বললাম,‘আপনি মার্কসকে দেখেছেন?’
‘বেশি চালাকি করো না। ইয়ার্কি করছ তুমি আমার সঙ্গে? তুমি দেখেছ?’
ঠাকুর রামকৃষ্ণের কথা মনে হল। বললাম, ‘দেখেছি শুধু না। কথাও বলেছি।’
রেগে চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়েছিলেন তিনি।
তারপর আমাদের মধ্যে প্রায় পনেরো বছরের মতো কোনো কথা হয়নি। অফিসে বা রাস্তায় মুখোমুখি হলে আমরা দু’জনেই ছাদ অথবা আকাশ দেখতাম।
একদিন স্বাভাবিক নিয়মেই আমাদের মধ্যে আবার কথা হল। ততদিনে আমি অন্য একটি ইউনিয়নের নানা পদে থেকেছি। বক্তব্য রেখেছি। ওনার বলার ভঙ্গি থেকে যে আমার বলা ভালো তা বলতেন ওদের ইউনিয়নের অনেক মেম্বার।
ফলে আমাদের মধ্যে আবার কথা হলেও আমাকে যে আর কোনোদিন ওনার ইউনিয়নের মেম্বার হতে বলবেন না বা জোর করে মিছিলে যেতে বলবেন না এটাতে নিশ্চিন্ত ছিলাম।
মেয়ের বিয়েতে আমাকে নিমন্ত্রন করলেন তিনি। বললেন, ‘অবশ্যই যাবে কিন্তু।’
আমি এটা ভাবতেই পারিনি। বললাম, ‘যাব।’
গেলাম। খুব খুশি হলেন তিনি।
অফিসের লোকজনের বাড়ির অনুষ্ঠানে গেলে যা হয়, ফেরার সময় জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কবে জয়েন করছেন?’
বললেন, ‘দেখি এদিকে সব সামলে নিতে কয়েকটা দিন তো সময় লাগবেই।’
আমি ওনার মেয়ের বিয়েতে গেলাম এটা নিয়ে অফিসের অনেকের মনে কৌতুহল।
উনি অফিসে জয়েন করলেন। একদিন বললেন, ‘চল চা খেয়ে আসি।’
অফিসের নিচে চায়ের দোকানে গেলাম। চা খেতে খেতে বললেন, ‘একটা কথা বলব?’
‘কি কথা?’
‘তুমি যে আমাকে একদিন বলেছিলে মার্কসকে তুমি দেখেছ তাঁর সঙ্গে কথা বলেছ। তার মানে কি?’
বললাম, ‘আপনি কি তাই নিয়ে এখন আমার সঙ্গে ঝগড়া করবেন?’
‘না। তা কেন? জানতে চাইছি।’
বললাম, ‘এটা জানবার জন্য এত বছর সময় নিলেন? তখন জানতে চাইলেই তো বলতাম।’
‘এখন বল।’
‘আমি যখন বইতে তাঁর সাম্যবাদের তত্ত্ব, মতাদর্শ এসব পড়েছি তখন ছবিতে তাঁকে দেখেছি।’
খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন আমার দিকে। অদ্ভুত এক বিস্ময় যেন চোখে মুখে। বললেএন, ‘আর কথা বলা?’
বললাম, ‘পড়তে গিয়ে যেখানে ভালো লেগেছে তাতে একমত হয়েছি। মনে মনে শ্রদ্ধা করেছি। যা পড়বার সময় নানা প্রশ্ন এসেছে তাই নিয়ে মনে মনেই আলোচনা করেছি তাঁর সঙ্গে। এটা কি কথা বলা হল না?’