|| নারীতে শুরু নারীতে শেষ || বিশেষ সংখ্যায় কাকলি দাশ ব্যানার্জী

নারী

নারী …
প্রতিমুহূর্তে সুচারুভাবে রূপান্তরিত হতে থাকা
এক আচরিত ধর্মের অভিজাত নাম ,
শৈশবের বিতানে আদুরে বারান্দায় অকাল বসন্তের ছোঁয়া আনা কন্যাটি খেলাঘরের কোলেপিঠে-
ভবিষ্যতের ছবি আঁকতে আঁকতেই কিশোরী হয়ে ওঠে
তার পিতৃগৃহে …
দুচোখে তার স্বপ্নের হুল্লোড় ,
রাজসিক উন্মাদনায়
সে সমাজ শোধনের অঙ্গীকার বদ্ধ এক মানবী তখন …
কিন্তু দাবানল হওয়া শুধু পুরুষের সাজে ,
তাই অর্জন নয় ,কৃষিকাজে মন দিতে হবে বলেই তাকে প্রথাগতভাবেই অবলা ভেবে
অচেনা এক দৃঢ় মুঠিতে সমর্পণ করেন পিতা …
শ্বশুরগৃহে আসা তন্বী তখন সলজ্জ বধূ
যার চলন বলন নিক্তিতে মাপা হচ্ছে… ,
প্রতিটি চেকপোস্টে শব্দ ঝাঁজে তার মননকে
পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হচ্ছে …,
তবুও রাতের বিছানায় সে রমণী হয়ে
মোহনায় রাখা কামের ঘামগন্ধে নিজেকে ভিজিয়ে
রতিসুখ দিতে দিতেই গর্ভবতী হয়
সেই বংশের লাবণ্য আনবে বলে ,
সঙ্গোপনে অবশ্য নিজের বলি দেওয়া স্বপ্নদের জন্য বিশল্যকরণীর খোঁজও রাখে ,
যদি একটা স্ফুলিঙ্গ আগ্নেয়গিরি হয় …
এরপর নতুন পরিচয় সে মাতা
সদ্যোজাত জননী
প্রসববেদনাকে উপেক্ষার দহনে নির্বাক করে ,
আঁতুড় গন্ধ মাখা সন্তানের মুখে তুলে দেয় অবিশ্রান্ত অমৃতরসের অনর্গল প্রত্যয় ,
এদিকে সংসারের কালবৈশাখীর রেওয়াজে প্রকাশিত আস্ফালনকে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে
স্বামীর সহযোদ্ধা হতেই রুট বদল হয় অঙ্গনার…
সংসারের মানুষগুলো দশমিকের হিসাবে কিন্তু ভুল করে না..
তাই কর্মরতাটির বাইরের আকর্ষণ
যাতে কোনভাবেই তাকে বিলাসী না করে
তার জন্য ব্যালেন্সশিটে কিছু বিষাক্ত ষড়যন্ত্রের বিজ্ঞপ্তি
ঝুলিয়ে রাখে বারোমাস্যার পাঁচালিতে
এভাবেই সুগৃহিণী হয়ে উঠতে উঠতে আর
গার্হস্থ্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে
সে মেয়ে থেকে বউ , বউ থেকে মা ,
আর তারপর মহিলা হয়ে যায়,
ঠিক এসময়
সন্তানের চোখে অসমাপ্ত নদীর গতিপথ খুঁজতে গিয়ে
থমকে দাঁড়ায় সে

ঝলসে যাওয়া মুখে তখন
বিবর্ণ রূপালী সুখ
একমাত্র মাতব্বর সন্তান তার জীবনের ষোলো কলা পূর্ণ করে
বিগতযৌবনা নারীকে সে বুঝিয়ে দেয় পিতার অবর্তমানে উত্তরাধিকার সূত্রে এ বাড়ি তার …
নারীর কোন বাড়ি নেই তার বাড়ি থাকে না ।

আসলে নারী নিজেই যে তার দেহে একটা বাড়ি নিয়ে জন্মায়
এমন অকাল কুষমান্ডের জন্ম দেবে বলে ।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!