|| শাম্ভবী সংখ্যা ২০২১ || T3 শারদ সংখ্যায় জয়তী রায়

ফোনালাপ 1
: হেল্লো, রজত। আছো?
— না থাকলে , তুললাম কি করে ফোন?এই জন্য মেয়েদের বুদ্ধি নিয়ে গুণীজনেরা নানান মন্তব্য করে থাকেন!
–আরে , বলতে, চাইলাম ফ্রি আছো কিনা? অফিসে চাপ বেশি?
–হুঁ
–আচ্ছা, তাহলে রাখছি। তুমি ই বলেছিলে, এই উইকেন্ড বাইরে যেতে পারবো কিনা জানাতে , তাই ফোন করলাম!
—-ঠিক আছে। এখন তো শুনছি। যেতে পারবে ? ম্যানেজ করেছ?
— ই স! একবারে টপ টপ টপ … ঝরে পড়লো জল। এখন আর অফিস নেই? আর , তোমার ঐ গুণীজন? বলেন নি ? বিয়ের আগে যেতে নেই এমন? ও অহনা , অহনা , অহনা। সবসময় তোমার এই ক্লাইমেক্স টেনশন আমার আর সহ্য হয় না। প্লিস। অনেক ব্যবস্থা করতে হবে ।
— মাকে ম্যানেজ করেছি। ফ্রাইডে, স্যাটারডে। দুদিন। কিন্তু ওখানে ওই গুণীজনদের সঙ্গে নিয়ে যেওনা, রজত। এই লাস্ট টাইম বলে দিলাম !
:আরে মারো গুলি, গুণীজন_ মহাজন। এখন শুধু তুমি , আমি আর নির্জন !
—সে কে? নির্জন কে? এই যে বললে , শুধু আমরা যাচ্ছি।এর মধ্যে নির্জন কোথা থেকে এলো ?
— উউহঃহ,, অহনা , অহনা। চট করে কাজ শেষ করে ফেলি কেমন ? আমার মুনচু সোনা। পুনটু সোনা। তুমি চিন্তা করোনা। নির্জন হল ঐ ডাকবাংলোর চৌকিদার! ওকে? বাই।
ফোনালাপ ২
__ হ্যালো রজত
—- ইয়েস স্যার।
—–মনে আছে?নেক্সট মাসে , এক মাসের জন্য যাচ্ছো মুম্বাই?
—- হ্যাঁ স্যার। নো প্রবলেম স্যার। “
—–হুমম। আচ্ছা! রজত ? একটা কথা বলছি … কিছু মনে করো না। তোমরা তো সব আজকাল ,বান্ধবী নিয়ে এদিক ওদিক বেড়াতে যাও । যাও না?
—- কি বলছেন স্যার! আমি তো অফিস আর বাড়ি , বাড়ি আর অফিস। এর বাইরে কোথাও যাই না ! গুণীজন বলে গেছেন, ভাবিয়া করিও কাজ , করিয়া ভাবিও না!
—- হুম। ওনারা ঠিক কথাই বলেছেন।
—— কেন স্যার? কিছু প্রবলেম স্যার?
——- না। ভেবেছিলাম, এই উইকেন্ড এ একটু বাইরে ঘুরে আসি। গিন্নি ও নেই কলকাতা। কিন্তু, ওই যে বললে, ভাবিয়া করিও কাজ… থাক। এই বয়সে আর রিস্ক নিয়ে লাভ নেই।
ফোনালাপ 3
— হ্যালো
—- হ্যালো কে ?
—– আমি তোমার ফেসবুক ফ্রেন্ড মিনকি।
—— মাংকি? ফেসবুক ফ্রেন্ড? মোবাইল নম্বর কোথায় পেলে?
—– ও রজত। মাঙ্কি না। মাঙ্কি না। মিনকি। তুমি ই তো দিলে। রাত দুটোর সময় সেই নটি নটি চ্যাটের সময়! ভুলে গেলে ? ঊঊঊঊ।
— উফ । মা …স্যরি মিনকি। এখন আমি অফিসে। এখন তো নটি নটি চ্যাট করা যাবে না!
—- ও রাজু, আমার রাজু। এই তো কাল রাতেই বললে, আমার মতো সুন্দরী দেখোনি। আমি নাকি লাপ্পা হট। রাজ্জু ,জানো। আমাকে সবাই সুন্দরী বলে । কিন্তু ঐ লাপ্পা হট ? ওটা আমি এত বছরের এফবি জীবনে শুনিনি গো। ওটা একটু বুঝিয়ে দেবে গো!
ফোনালাপ 4
———-/———
— হ্যালো অহনা।
—-কি ব্যাপার !”
——আরে। ব্যাপার আবার কি? কোনো দরকার নেই। এমনি তোমাকে মনে পড়লো , তাই ফোন করলাম।
—– সত্যি।
—– তিন সত্যি। আসলে , এবার বাইরে ঘুরে আসবার পরথেকে না তোমাকে ভুলতে পারছি না।
—- যাহ! তুমি তো এখন এয়ারপোর্টে? উফ। একমাস! রজত , একমাস পরে এসে আইসক্রীম খাওয়াবে তো?
— হুঁ।
— অনেক দিন গিফ্ট দাওনি কিছু। একটা ভালো ড্রেস দিও।
—হুঁ
— আরে, তখন থেকে, হুঁ হুঁ করে যাচ্ছো কেন বোলো তো? নিজেই তো ফোন করলে ? রজত, খুব মিস করবে আমাকে? বুঝতে পারছি। তার জন্য, বাড়ি থেকে বেরোবার সময় ফোন আবার এয়ারপোর্টে বসে ফোন।
— হুঁ ।
— একটা তো মাস, বেবি। ডোন্ট ওরি। কেটে যাবে দেখতে দেখতে। উইল মিস ইউ সো মাচ রজত।
—-ওক্কে অহনা। ফ্লাইট আধঘন্টা লেট ছিল। টাইম হয়ে গেছে। যাচ্ছি। বাই। take care ।
—ওহ মাই গড! এইজন্য তুমি টাইম পাস করছিলে? শয়তান বদমাশ
গুণীজন বলে গেছেন… প্রেমে কখনো সত্যি কথা বলতে নেই।