ক্যাফে গল্পে যুবরাজ মাল

এতো উদারতা চাইনি যেখানে আমি পুড়তে পুড়তে একসময় সম্পূর্ণ ভাবে ছাই হয়ে যাবো।
এতো উদারতা চাইনি আমি যেখানে নিজেকে খুইয়ে শেষমেশ ভবঘুরে হয়ে যাবো।
এতো উদারতা চাইনি আমি, যেখানে কড়ি আর তেলের মূল্য শূন্য।

এতো বসন্ত, শ্রাবণ চাইনি আমি, একটু গ্রীষ্মের উষ্ণ ছোঁয়া ও চেয়েছি আমি।
একটু রোদেলা দুপুর, ঘাম ঝরা বিকাল, সকালের পান্তায় পেঁয়াজ, জল দিয়ে মুড়ি ও চেয়েছি আমি।

ভাঁটার শ্রমিক রা যখন হাঁড়িয়া খেতে খেতে কাঁচালঙ্কা কামড়িয়ে দেশের কথা বলে, ছেলের মাছ ধরা গল্প বলে, মেয়ের বিয়ে বউ এর নতুন কড়া কিনবার কথা বলে, যখন লাল গামছায় সোঁদা গন্ধে নাক পুরে দিয়ে ঘামটা মুছে নিয়ে বাপের ক্ষেত জমির গল্প করতে করতে বিড়ির ধোঁয়া টা এক দীর্ঘ নিশ্বাস ধরে বাতাসে ছাড়ে।

হ্যাঁ-
তখন আমি একটা ভালোবাসা খুঁজে পাই তাদের মধ্যে, তাদের কাছে বসন্তের বিকল্প ব্যাখ্যা হয় না পান্তার আমানির সাথে, তাদের কাছে শ্রাবণ মানে এক চাল ভাঙা ঘরের দুঃস্বপ্ন, তাদের কাছে প্রেম মানে দিনে কিছু বেশি আয় করে এবারে ঘরে ফেরার সময় বউ এর জন্য একটা শাড়ি কিনে নিয়ে যাওয়া।

হুমম,,,
তাই আমি এতো উদারতা চাইনি যেখানে হতাশ গ্রস্থ হয়ে বিড়ির ধোঁয়ায় কাব্য রচতে গিয়ে নিজেকে ভাঙতে হবে।
আমি এতটাও কাল প্রেমি হয়নি যেখানে শতাব্দীর রক্তে লেখা প্রেমের আঁচড় শ্রাবণের ধারায় মুছে দিতে চাইবো।
আমি এতোটাও স্পর্শকাতর নই যে, যেখানে গ্রীষ্মকালীন দাবদাহ আমাকে বটের ছায়ার স্বপ্ন দেখাবে।

আমাকে বরং একটা লাল গামছা দিও, খুব কষ্টে ঘেমে গেলে মুখ মুছে নেবো তার চটচটে কাপড়ে,
কষ্ট পেলে শুয়ে পড়বো তাকে মাটিতে বিছিয়ে।
আর,,?
আর হেরে গেলে ওকেই ফাঁস বানিয়ে গলায় নেবো।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।