T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় জয়ন্ত দত্ত

পাহাড় ডিঙিয়ে হাঁটছি
তোমার ছায়ায় কার ছায়া মিশেছিলো?/
পাহাড় কী জানে? /
জল জানে আজন্ম মাছের অসুখ—/
ফিরে যায় সেখানেই আত্মার টানে /
পাহাড়ি রোদ্দুর, ঝর্ণাধারা আর ভ্রমণপিয়াসীদের কোলাহলে/
একটি বিকেল; সবার অলক্ষ্যে—/
একখন্ড স্বর্গ নেমেছিল পাহাড় বেয়ে, /
আমাদের নৌকো চলে যাচ্ছিলো স্বর্গের পাশ ঘেষে/
আর তখনই হঠাৎ —/
আগুন জ্বলে উঠলো পাহাড়ের চুড়োয়/
দুটো পাখির ডানার আড়ালে সুর্য লুকিয়ে পড়ে/আমাদের ছায়ায় মিশে যাচ্ছিলো বিদঘুটে অন্ধকার/
আমার বুকে চেপে ছুটছো তুমি ফিরতি বাসে /
তোমার বুকে ঘুমিয়ে গেলো সমস্ত কোলাহল/
অতীত ছেড়ে আমরা স্বপ্নের দিকে হাঁটছি—/
তোমায় নিয়ে পাহাড় জয় করার ইচ্ছে থাকলেও হয়নি ওঠা;/
তোমাকে জয় করার ঠিক পরেই/
তোমার ভেতরেই বানিয়ে দিলে অজস্র পাহাড়/
একা একা আর কতদূরপথ হাঁটা যায় বলো?
.
বাতিঘর
নাবিক হওয়ার ইচ্ছে ছিল আমার।
দূরবীন- বাতিঘর- ঝড়- ঝুঁকি
একটু বেশিই প্রিয় ছিল।
সময় গড়ালো, ঈশাণ কোণে আলোড়ন দেখলাম।
অভিশাপ লেগে গেল সস্তা পাবলিসিটির বুকে।
ঘরপোড়া নামও জুটে গেল হুজুকের আকালে।
লোকে রটিয়ে দিল আমি বড় হয়ে গেছি!
হাজার চেষ্টাতেও নাবিক হওয়া গেল না।
তারপর আমি সমুদ্দুর হয়ে গেলাম…
ইলিউশন
বড় রাস্তার কাছে রোজ সকালে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকি।আর প্রায়শই কিছু না কিছু ঘটেই যায়।এই যেমন রাস্তায় সকাল সকাল তাড়া খাওয়া একটি লোক চোখের সামনে দিয়ে ছুটে চলেছে।বোধহয় কিছু চুরি করেছে।মারমূখী জনতার কয়েক ঘা খেয়ে সে দৌড়ুতে আরম্ভ করে।কপাল ফেটে রক্ত ঝরছে।লোকটি দ্রুত মিলিয়ে যায় সামনে থেকে। তবু আমি দেখতে পাচ্ছি তাকে!আসলে আমিও যে দৌড়াচ্ছি লোকটির সাথে বাঁচার জন্য।বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে।দৌড়তে দৌড়তে আমরা রাস্তার পাশে দরজা খোলা একটি ঘরে ঢুকে পড়ি।ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে নিশ্চিন্ত হই।ওদিকে রাস্তার মারমূখী জনতা ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে দরজায়—‘ঐ যে শালা ,শয়তান টাকে ধরা গেছে–মার শালাকে…।’ রাগে ঘৃণায় খুশিতে সকলে ঝাঁপিয়ে পড়ছে দরজার ওপারে।আর আমি লোকটির সাথে সমস্ত শক্তি দিয়ে চেপে ধরেছি।দরজার ছিটকিনি ভেঙে যাবে হয়ত।তবু সমস্ত শক্তি দিয়ে প্রাণপনে বাঁচার চেষ্টা করে যাচ্ছি…
আলোকিত অন্ধকারে
অন্ধকার নেমে এলে সবাই/
ঘরে ঢুকে বলে ভালোবাসি চলো/
সব কিছু ফেলে রাত তবু হেঁটে যায়/
রয়ে যায় পথে ঘাটে সোডিয়াম আলো…/
ধর্ম
একটি ঘরে চারজন মানুষ থাকে/
কেউ কারো সাথে কথা বলে না/
প্রত্যেকে বাইরে যাবার সময়/
নিজ নিজ দরজা ব্যবহার করে/