T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

নদীর সঙ্গে কথা
যে নদী অনর্গল কথা বলে তাকে মনের কথা বলা গেল না
স্কুল-কলেজে ফার্স্ট বেঞ্চে জায়গা না পেলে কত মনখারাপ
অথচ পিছনে কত গল্প,কানে ঢেউ তুলত বলা হত না
এখন দ্বিতীয় বেঞ্চ পছন্দ, সামনে ও পিছনে নয়
সামনে গাম্ভীর্য আর অহং, পিছনে হাসি- আনন্দের হাট
কারও কথা কেউ শোনে না,সবাই বলে,বকা খায়
তবু ঘোলা জলে চিংড়ি হয় গুঞ্জন ওঠে,গুঞ্জন ছোটে
নদীর কাছে ফিরি।তার টুংটাং কথার ফাঁকে
নিজের কথা
মিলিয়ে দিই। অথচ তা শুধু আমারই কথা নয়
আদিপিতা থেকে যত শত পিতৃপুরুষ আমার মতো
আক্ষেপকথার মহাভারত লিখে গেছেন তাদের সবার কথা
গদ্য করে বলি,বলেই চলি,এই নদী মাঠঘাট মানুষ
প্রত্যেকের অভিমান গেঁথে গেঁথে ভাসাই নদীর বুকের গভীরে
কলধ্বনি বেয়ে হারানো গান আর সুর চোরা আলো
একবুক ভার নামিয়ে নদী মুক্তি পায়,
নিজের মুক্তির কথা বলাই হয় না।